‘এরপর আর কোনোদিন ফোন ধরব না’ সৌদিতে আগুনে নিহত মোহনের শেষ আর্তনাদ

‘বাড়িতে কি সবাই পুড়ে মরছে, কেউ ফোন ধরছে না... এরপর আর ফোন দিস না, কোনোদিন ধরব না।’—সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঠিক আগমুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে এমনই আকুতি জানিয়েছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহলী গ্রামের প্রবাসী মোহন।
ভাইয়ের পাঠানো সেই ভয়েস মেসেজ এখন স্বজনদের কাছে এক হৃদয়বিদারক স্মৃতি। জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে সেটিই ছিল মোহনের শেষ বার্তা। সৌদি আরবে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার ১২ জন প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
নিহত মোহনের সঙ্গে একই কর্মস্থলে ছিলেন তার ছোট ভাই সুমনও। অগ্নিকাণ্ডের সময় মোহন তার বোন আদরীর মোবাইল ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। সেখানে আতঙ্কিত কণ্ঠে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বাড়িতে কি সবাই পুড়ে মরছে, কেউ ফোন ধরছে না।’ এরপর তিনি বলেন, ‘এরপর আর ফোন দিস না, কোনোদিন ধরব না।’
ভয়েস মেসেজের শেষদিকে মোহনের কণ্ঠ আরও আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।’
ভাইয়ের সেই শেষ কণ্ঠ এখন বারবার কাঁদাচ্ছে বোন আদরীকে। মৃত্যুর আগে ভাইয়ের ফোনটি ধরতে না পারার কষ্টে ভেঙে পড়েছেন তিনি। একই ঘটনায় দুই সহোদর ভাইকে হারিয়ে বারবার আহাজারি করছেন আদরী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা।
স্বজনরা জানান, শেষ মুহূর্তে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে না পারার আক্ষেপ তাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। কয়েক মুহূর্তের সেই ফোনকলই যে মোহনের সঙ্গে পরিবারের শেষ যোগাযোগ হয়ে যাবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে কর্মস্থলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ১২ জন প্রবাসী শ্রমিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।
নিহতদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনরা দ্রুত নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় মানবিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভোরের আকাশ/সু.পা