রাঙ্গুনিয়ায় অপহৃত শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে অপহৃত সাত বছরের এক শিশুকে ঘটনার দুই দিনের মধ্যে নিরাপদে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
একই অভিযানে অপহরণে জড়িত অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) এবং মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে স্কুলে যায়। ছুটি শেষে সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে তার এক সহপাঠী জানায়, একজন ব্যক্তি অটোরিকশাচালক পরিচয়ে এসে তাসকিনকে বলেন, তার বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই কথায় বিশ্বাস করে শিশুটি অটোরিকশায় ওঠে এবং সেখান থেকেই তাকে অপহরণ করা হয়।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, প্রথমদিকে অপহরণকারীদের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য ছিল না। পরে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকেই অপহৃত শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি অপহরণে ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া ফয়সাল শিশুটির বাবার মামাতো ভাই। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণের পরিকল্পনা করেন। পরে তিনি পরিচিত দুই অটোরিকশাচালককে এই পরিকল্পনায় যুক্ত করেন এবং মুক্তিপণের অর্থ ভাগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভোরের আকাশ/রই