ফুলবাড়িয়ায় বাসচালক জুলহাস হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল জনতা
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় আলম এশিয়া পরিবহনের ঘুমন্ত বাসচালক জুলহাস পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। নির্মম এ হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং দ্রুত খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্বজন, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হয়ে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। সড়কের দুই পাশজুড়ে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এলাকা পরিণত হয় শোকে-ক্ষোভে ভারী জনসমুদ্রে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং নৃশংস হত্যা। সিসিটিভিতে ফুটেজ থাকার পরও এখনো হত্যাকারীরা অধরা, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বক্তারা আরও বলেন, জুলহাস ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাকে যে নির্মমভাবে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, তা গোটা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। খুনিদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ও ফাঁসির আদেশ নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধন চলাকালে স্বজনদের আহাজারি ও জনতার ক্ষোভে পরিবেশ আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
বক্তারা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করতে হবে। না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক জিএস কবির হোসেন, যুবদল নেতা আজাহারুল আলম রিপন, জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস এলিস, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আতাহার আলী আকন্দ কাজল, ছাত্রদলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তাহসিনুল আবরার লিসান, এম শাহরিয়ার আহমেদ অশ্রু, সাজিবুল ইসলাম সজিব, মাহবুব হাসান, সাদ উদ্দিন সাদিক, ইবনে কাসির তারেক, মাহমুদুল হাসান, কেপি আল আমিন, নবী হোসেন, মামুনুর রশীদ প্রমূখ।
ফুলবাড়িয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুকনুজ্জামান বলেন, আমরা রাত-দিন চেষ্টা করছি। খুনিদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস নেই। জনগণের সহযোগিতা চাই। খুব শিগগিরই সুখবর পাবেন।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা থানার ফটকে সমবেত হন। এ সময় ওসি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, যে পুড়িয়ে মানুষ মারে, তার সঙ্গে কোনো আপস নেই।
ভোরের আকাশ/তা.কা