পীরগঞ্জে অচল রাস্তা সচল করল গ্রামবাসী

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের লাটমিঠিপুর ও ছোট কাশিমপুর গ্রামের প্রধান সড়ক। নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে গত এক সপ্তাহ ধরে সড়কটি সংস্কারের কাজ করছেন তরুণ, যুবক ও প্রবীণরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাটমিঠিপুর ও ছোট কাশিমপুর গ্রামের প্রধান কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে গ্রামের বাসিন্দারা নিজেরাই সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেন। গত এক সপ্তাহ ধরে তারা অর্থ সংগ্রহ করে এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সড়ক থেকে কাদামাটি সরিয়ে ইটের খোয়া, বালি ও মাটি ফেলছেন। এতে ধীরে ধীরে সড়কটি চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, বৃষ্টি হলেই তাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা স্কুলপড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়ে। ইউনিয়নের একেবারে শেষ প্রান্তে হওয়ায় গ্রাম দুটির প্রতি জনপ্রতিনিধিদের তেমন নজর নেই। তাই বাধ্য হয়ে নিজেদের উদ্যোগেই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার কাজ করছেন তারা।
গৃহবধূ রোকসানা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। অনেক কষ্ট করে কাজ করে সংসার চালাই ও ছেলে-মেয়েদের মানুষ করি। বৃষ্টি হলে কয়েক দিন ভ্যানও চলাচল করতে পারে না। তখন অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হয়। কেউ অসুস্থ হলে প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পার হয়ে ঘাড়ে করে পাকা সড়কে নিতে হয়। এরপর সেখান থেকে হাসপাতালে যেতে হয়। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ আরও বেশি।’
পঞ্চাশোর্ধ্ব আব্দুল লতিফ বলেন, গ্রাম দুটির চারপাশে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পাকা সড়ক রয়েছে। বর্ষাকালে সড়কটির কারণে অনেকটা বন্দিজীবন কাটাতে হয়। টেকসইভাবে সড়কটি উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ মণ্ডল বলেন, রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তা বাস্তবায়ন হলে গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা