পানি সরবরাহের পাইপ ও আর্থিং লাইনের তার চুরি, তীব্র তাপদাহেও ২০০ বিঘা জমির সেচকাজ বন্ধ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সাদেকপুর মাঠ থেকে বোরিং-এর মাধ্যমে আশেপাশের জমিতে পানিসেচ দেওয়ার সরবরাহ পাইপ এবং ট্রান্সমিটারের সাথে স্থাপিত আর্থিং লাইনের মূল্যবান তার কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার শেষরাতের দিকে উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের সাদেকপুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে সেচ সংকটের এই সময়ে এলাকার প্রায় ২০০ বিঘা জমির বোরো ধানের পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিমুল শেখ স্থানীয় কচুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে কচুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক আশাবুর রহমান জানিয়েছেন।
সাদেকপুর গ্রামের মোসলেম শেখের ছেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শিমুল শেখ জানান, করোনাকালীন সময়ে চাকরি হারানোর পর তিনি গত কয়েকবছর তার গ্রামে একটি সেচের পানি সরবরাহের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে ট্রান্সফর্মার বসিয়ে নিজের এবং প্রতিবেশী কৃষকদের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করে আসছেন। রোবরার মধ্যরাতে এক ব্যক্তিকে সেচপাম্পের কাছে দেখে সন্দেহ হলে তিনি টর্চের অলোয় ওই ব্যক্তিকে প্রতিবেশী এলিচ বলে সনাক্ত করেন। এলিচ তার গায়ে টর্চের আলো ফেরার জন্য শিমুলকে হুমকি দেন। রাতেই শিমুল বিষয়টি গ্রামের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিকে অবহিত করেন। সেকারণে এলিচ ওই রাতেই তার পানি সরবরাহ করার ফিতা কেটে দেন এবং ট্রান্সফর্মারের সাথে সংযুক্ত আর্থিং লাইনের দামি তার চুরি করে নিয়ে যায়। ফলে বোরো ধানের সবগলো প্লটেই পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। মারাত্মক সেচসংকটের মুখে পড়েছেন চাষিরা। গতবছরও কয়েকজন অজানা দুস্কৃতকারি শিমূল শেখকে হুমকি দিলে তিনি শৈলকুপা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান।
ওই এলাকার জাহিদ, হোসেন আলী, ফরহাদ হোসেন সহ কয়েকজন চাষি জানান, শিমুল শেখের মাধ্যমে কমমূল্যে সরবরাহকৃত সেচের পানিতে এলাকার কৃষকরা ফসল ফলিয়ে লাভবান হচ্ছেন।বোরোমৌসুমে আর কদিন পরই যখন ধান কাটা শুরু হবে, এ মুহুর্তে সেচের পানি সরবরাহ বন্ধ হলে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হবে যা পুষিয়ে নেওয়া রীতিমতো দুঃসাধ্য।
এ ব্যাপারে কচুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক আশাবুর রহমান জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। মঙ্গলবার শুনানির জন্য বাদী এবং অভিযুক্ত এলিচকে নোটিস দিয়েছেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/এনউব