যানজট কমাতে খুলশী ওভারপাস নির্মাণে জোর দিল চসিক

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রস্তাবিত খুলশী রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, কারিগরি দিক এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশন পর্যালোচনা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সম্প্রতি নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয়, নকশা, জনসেবায় প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়। এতে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ডিলাইট ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসালট্যান্টস লিমিটেড (ডিইসিএল)-এর বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি এবং সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থাপনায় ডিইসিএল প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ, প্রকৌশলগত বৈশিষ্ট্য, সম্ভাব্য ব্যয় এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনার কৌশল তুলে ধরে। প্রেজেন্টেশন পর্যালোচনা শেষে মেয়র প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া চট্টগ্রামকে আধুনিক, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, খুলশী রেলগেট এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত ওভারপাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪৫ বছর পুরোনো দেওয়ানহাট ওভারপাস ভেঙে নতুন নির্মাণের পরিবর্তে আধুনিক রেট্রোফিটিং ও স্ট্রেনদেনিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা হলে সময় ও ব্যয়—উভয়ই সাশ্রয় হবে।
প্রেজেন্টেশনে জানানো হয়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম রেলপথের সংযোগস্থলে অবস্থিত খুলশী রেলগেটে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানে প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনবিশিষ্ট একটি ওভারপাস নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে মূল ওভারপাসের পাশাপাশি র্যাম্প, সার্ভিস রোড, ফুটপাত এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দ্রুতগতির যানবাহন ওভারপাস ব্যবহার করবে এবং স্থানীয় যানবাহন সার্ভিস রোড দিয়ে চলাচল করায় যানজট অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া সভায় দেওয়ানহাট ওভারপাসের বর্তমান অবস্থা, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ভারী যানবাহনের চাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিদ্যমান অবকাঠামো সংরক্ষণ করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি ও আয়ুষ্কাল দীর্ঘায়নের বিভিন্ন বিকল্পও উপস্থাপন করা হয়।
সভা শেষে মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়ানহাট ওভারপাসের রেট্রোফিটিং ও স্ট্রেনদেনিং পরিকল্পনার কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক আরও গভীরভাবে যাচাই করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ প্রণয়নের নির্দেশ দেন।
ভোরের আকাশ/জেআ