বন্দরে তামাক, সন্দেহজনক পাউডার ও স্ক্র্যাপ পেপারের চালান আটক

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কায়িক পরীক্ষায় আমদানির ক্ষেত্রে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে একটি সন্দেহজনক চালানের সন্ধান পাওয়া গেছে। চালানটিতে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া সামগ্রীর বড় ধরনের অমিল ধরা পড়েছে।
কায়িক পরীক্ষায় তামাক বা তামাকজাতীয় পণ্য, বিভিন্ন রঙের মাদকসদৃশ দেখতে পাউডার এবং ঘোষিত প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়।
সিআইআইডি সূত্র জানায়, আমদানির কাগজপত্রে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’-কে আমদানিকারক বা কনসাইনি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট আমদানি সম্পর্কে তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই অবগত নন। এমনকি চালানটির সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততাও নেই।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীর ধারণা, কোনো অসাধু চক্র তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে এই চালানটি দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ঘটনায় প্রকৃত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
কাস্টমসের নথি অনুযায়ী, Manifest No. 4524/2026 এবং Voyage No. 011-এর আওতায় MV UDDIPON EXPRESS জাহাজে কলকাতা থেকে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। জাহাজটি ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে রওনা হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই Master B/L 301174347-এর বিপরীতে দুটি House B/L ব্যবহার করে চালানটি আমদানি দেখানো হয়েছে।
প্রথম House B/L নম্বর ISLCCU2627CGP095। এতে পণ্যের বিবরণ দেওয়া হয় “PAN MASALA AND ZARDA (CHEWING TOBACCO PRODUCT)”। সংশ্লিষ্ট নথিতে ৪৭৩ প্যাকেজের মোট ওজন ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি উল্লেখ করা হয়।
তবে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কায়িক পরীক্ষার সময় ৪৭০ প্যাকেজ থেকে ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়। এসব সামগ্রীর মধ্যে ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি ডার্ক ব্রাউন, ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি ব্রাউন, ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি গ্রে এবং ৫ প্যাকেজে ১২৫ কেজি সাদা রঙের সামগ্রী রয়েছে।
পরীক্ষার সময় বিভিন্ন রঙের আরও কিছু পাউডারজাত পদার্থ পাওয়া যায়, যেগুলো বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো মনে হয়েছে। তবে শুধু চেহারা বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এসব পদার্থকে মাদকদ্রব্য হিসেবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এতে কোনো মাদকদ্রব্য, নিষিদ্ধ পদার্থ বা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা জানতে রাসায়নিক ও পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ প্রয়োজন। নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই এসব পদার্থের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় House B/L নম্বর ISLCCU2627CGP096। এখানে পণ্যের বিবরণ হিসেবে “PRINTED PAPER CATALOGUE” উল্লেখ করা হয়। কাস্টমস নথিতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজের মোট ওজন ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি দেখানো হয়েছিল।
কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক, অর্থাৎ ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে পাওয়া যায় সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার। এসব পণ্যের ওজন ৯ হাজার ২৬৩ কেজি, যা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টনের সমান। ফলে নথিতে ঘোষিত পণ্য এবং পরীক্ষায় পাওয়া সামগ্রীর ধরন ও শ্রেণিবিন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি এখন তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুটি House B/L-এর চালান একত্রে পরীক্ষা করে মোট ২ হাজার ৪০ প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি বা প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পণ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী ও সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ পেপার রয়েছে।
চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক, প্রতিষ্ঠানের নাম ও তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের এত বড় ধরনের অমিলের পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয় এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/আ.র