সোনারগাঁয়ে গ্যাস চুরির অভিযোগে চুন কারখানাকে জেল-জরিমানা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গ্যাস চুরি করে পরিচালিত অবৈধ চুন কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিলের নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে উপজেলার ইছাপাড়া ও পিরোজপুর এলাকায় মোট চারটি স্পটে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে তিনটি অবৈধ চুন কারখানা ও একটি ঢালাই কারখানার সাতটি চুন ভাট্টি এক্সক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ইছাপাড়া এলাকায় সোনারগাঁ জাদুঘর গেট সংলগ্ন একটি অবৈধ চুন কারখানার দুটি সচল ভাট্টি ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে কারখানার মালিক আবু বক্করকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তার বাড়ির অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।
পিরোজপুর এলাকায় পৃথক তিনটি স্থানে আরও দুইটি চুন কারখানা এবং একটি ঢালাই কারখানার ভাট্টি উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৩০ ফুট এমএস পাইপ জব্দ করা হয়।
তিতাস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে মোট ১৫ হাজার ৬২১ ঘনফুট/ঘণ্টা গ্যাস লোড বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৭৯ হাজার ২৩২ টাকার গ্যাস সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় অধিকাংশ কারখানার মালিক উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিতরণ লাইন উৎসস্থলে কেটে দেওয়া হয়েছে এবং ক্যাপিং করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অবৈধ গ্যাস ব্যবহার রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, ইসলামপুর এলাকায় মামুন, পিরোজপুরে বক্কর, জাউচর বালুর মাঠ এলাকায় হারুন এবং মল্লিকপাড়া এলাকায় ইলিয়াসসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ চুন কারখানা পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভোরের আকাশ/সু.পা