মামলা ছাড়াই দাফন সম্পন্ন
ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, তিন লাখ টাকায় রফাদফা

কুষ্টিয়ার একতা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশন থিয়েটারে ছয় বছরের শিশু তাসনিয়া আফরিনের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো অভিযোগ ছাড়াই শেষ হয়েছে আইনি প্রক্রিয়া।
ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কোনো মামলা না করা এবং মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করার গুঞ্জন নিয়ে এলাকায় ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের হাড়জোড় বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল হাদীর। আর অ্যানেস্থেশিয়া প্রদান করেন ডা. তাহেরুল আল আমিনকে ও ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
একাধিক স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে, নিহত শিশুর খালু হেলাল মাস্টারের মধ্যস্থতায় ক্লিনিক মালিক সাইদুলের সঙ্গে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা হয়েছে।
তবে এই দাবি অস্বীকার করেছেন হেলাল মাস্টার। তিনি ভোরের আকাশ কে বলেন, মানবিক কারণে আমরা অভিযোগ করিনি। কোটি টাকা দিলেও আমাদের মেয়ে আর ফিরবে না, তাই কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না।
ঘটনার দিন মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাইলেও এখন মানবিকতার কারণে বিচার থেকে সরে এসেছেন নিহত তাসনিয়ার বাবা তরিকুল ইসলাম
তিনি বলেন, বিচার নিয়ে কি করবো । মেয়েকে তো আর ফেরত পাব না। ডাক্তারদের ভুলের কারণেই আমার মেয়েটা মারা গেছে। কিন্তু কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে একতা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনাগুলো তো কোন মামলা হয়নি এ পর্যন্ত।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক মালিক সাইদুল ইসলামের মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কয়েক দফা চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে।
সোমবার রাতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হলেও গতকাল তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরিবারের অনীহা সত্ত্বেও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশের তাগাদায় ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) ফয়সাল মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ভোরের আকাশ কে জানান, নিহত শিশুর পরিবারে পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি।
থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
গত ৪-৫ দিন আগে সিঁড়ি থেকে পড়ে হাত ভেঙে গিয়েছিল শিশু তাসনিয়ার। সোমবার বিকেলে তাকে একতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ডা. আব্দুল হাদীর পরামর্শে অপারেশনের জন্য ওটিতে নেওয়ার পর ডা. তাহেরুল আল-আমিনের দেওয়া অ্যানেস্থেশিয়া ইনজেকশনের পরই শিশুটির মৃত্যু হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায়। পরে গভীর রাতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভোরের আকাশ/ র.ই