পুনঃখননে প্রাণ ফিরল নিয়ামতপুরের ৬ কিলোমিটার খালে, স্বল্প ব্যয়ে সেচের আশা কৃষকদের

দীর্ঘদিন ধরে পলি ও মাটিতে ভরাট হয়ে পড়ে থাকা খাল পুনঃখননের ফলে নতুন আশার আলো দেখছেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার কৃষকরা। খালটি পুনঃখনন হওয়ায় একদিকে যেমন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে কম খরচে সেচ সুবিধা পাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদে ব্যয়ও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, উপজেলার চান্দাইল থেকে ভেরেন্ডী হয়ে বেগুনতারা ও ঘোলাপুকুর পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি দীর্ঘদিন ধরে পুনঃখননের অভাবে পলি জমে ভরাট হয়ে যায়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে খালটি প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ায় কৃষি সেচে চরম সংকট দেখা দিত। আবার বর্ষা মৌসুমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সম্প্রসারিত কমিউনিটি জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্প (ইসিসিসিপি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে খালের দুই পাশের প্রায় ১০০ একর কৃষিজমিতে স্বল্প ব্যয়ে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমে কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন,অনেক বছর ধরে খালটি ভরাট থাকায় বোরো মৌসুমে সেচের জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হতো। এখন খাল খনন হওয়ায় পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হবে। এতে আমাদের সেচ ব্যয় কমবে এবং জমিতে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
আরেক কৃষক রমজান আলী বলেন,বর্ষাকালে জমিতে পানি জমে থাকত, আবার শুকনো মৌসুমে পানির অভাব ছিল। খালটি পুনঃখনন হওয়ায় দুই সমস্যারই সমাধান হবে। কৃষকদের জন্য এটি খুবই উপকারী উদ্যোগ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকরা কম খরচে চাষাবাদ করতে পারবেন। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতাও কিছুটা কমবে।
ইসিসিসিপি প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রাকিব উদ্দিন বলেন,খনন কাজ শেষ হওয়ার পর খালের দুই ধারে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন শোষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
ভোরের আকাশ/এনউব