শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পাইকার সংকটে তরমুজ বাজার, লোকসানের শঙ্কায় আমতলীর চাষিরা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

বরগুনার আমতলী উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা। পাইকার সংকট ও কম দামের কারণে লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আমতলীতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও বাজারদর কম থাকায় সেই সম্ভাবনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলজুড়ে সবুজে ভরা তরমুজের খেত। খেতের মাঝেই খড়কুটো দিয়ে তৈরি অস্থায়ী টংঘরে দিন-রাত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে পরিচর্যা ও বিপণন—সব ধাপেই তাদের নিরলস পরিশ্রম।

চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের চাষি মামুন মোল্লা জানান, প্রায় ৫ লাখ টাকায় ১০ কানি জমি লিজ নিয়ে ৫০ হাজার তরমুজের চারা রোপণ করেছেন তিনি। ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গত বছর অনেক পাইকার আসলেও এবার তেমন কেউ আসছে না। যে দাম দিচ্ছে, তাতে বড় লোকসান গুনতে হবে।

বর্তমানে আমতলীতে ৫ থেকে ৭ কেজি ওজনের প্রতিটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম বলে দাবি চাষিদের।

হলদিয়া ইউনিয়নের চিলা গ্রামের চাষি সিদ্দিকুর রহমান ও আলম বলেন, “উন্নত জাতের তরমুজ চাষ করেও আমরা খরচ তুলতে পারছি না। পাইকারের অভাবে বাজার স্থবির হয়ে আছে।

গুলিশাখালী ইউনিয়নের চাষি শাহিন সিকদার ও শ্রমিক সবুজ খান জানান, তরমুজ চাষে সার্বক্ষণিক শ্রম দিতে হয়। শ্রমিকদের মাসিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিতে হয়, পাশাপাশি থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করতে হয়। কিন্তু প্রত্যাশিত লাভ না হওয়ায় অনেক কৃষকই আগ্রহ হারাচ্ছেন।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, “এ বছর তরমুজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে বাজারদর কম থাকায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “আমতলীর মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদন করে স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারদের আমতলী থেকে তরমুজ ক্রয়ের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে ভালো ফলন ও লাভজনক বাজারদরের কারণে আমতলীতে তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে দাম কমে যাওয়ায় সেই আগ্রহে ভাটা পড়েছে।

ভোরের আকাশ/আ.র

তরমুজের বাম্পার ফলন

শেয়ার করুন: