শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সহযোগিতা প্রয়োজন

পা হারিয়েও ভিক্ষা করেননি, শ্রমে বাঁচতে চান আবু তাহের

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

একটি পা নেই, শরীরজুড়ে নানা অসুস্থতা। নেই এক ইঞ্চি জমিও, নেই স্থায়ী আয়ের কোনো উৎস। তবুও ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেননি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেরোয়া গ্রামের মো. আবু তাহের (৫০)। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এতদিন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালিয়েছেন তিনি। তবে সেই অটোরিকশাটিও হারিয়ে বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্ত্রী জেসমিন বেগমকে নিয়ে চরম অভাব-অনটনে দিন কাটছে এই দম্পতির।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আবু তাহের। জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকরা তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। দুর্ঘটনার আগে তিনি ছিলেন কর্মঠ ও সুস্থ মানুষ। দিনমজুরিসহ যখন যে কাজ পেয়েছেন, তা করেই স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালিয়েছেন।ৎ

দুর্ঘটনার পর তাঁর জীবন অনেকটাই বদলে যায়। শারীরিক সক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে একমাত্র ছেলেকেও হারান তিনি। ছেলেকে হারানোর শোক ও অভাব-অনটনের মধ্যেও ভেঙে পড়েননি আবু তাহের। জীবিকার তাগিদে একপর্যায়ে বিশেষ কৌশলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানো শুরু করেন।

এক পা না থাকলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়েই কোনোভাবে চলত তাঁদের সংসার। অন্যের কাছ থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি সেই গাড়ির মালিক নিজেই অটোরিকশাটি চালানো শুরু করায় আবু তাহেরের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও তাঁদের স্বামীরাও দরিদ্র। ফলে বাবার বাড়িতে নিয়মিত সহায়তা করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। আবু তাহের ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে প্রতিবেশীদের দেওয়া খাদ্যসামগ্রী ও সামান্য সহায়তার ওপর নির্ভর করে দিন কাটাচ্ছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, তাঁদের কোনো জমিজমা নেই। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে, কিন্তু তাঁদের স্বামীরাও দরিদ্র। প্রতিবেশীরা যা দেন, তা দিয়েই কোনোভাবে দিন কাটছে। তিনিও অসুস্থ। তবে তাঁর স্বামী অটোরিকশা চালাতে পারেন। কেউ একটি অটোরিকশা দিয়ে সহযোগিতা করলে তাঁরা ভিক্ষা না করে নিজেরাই উপার্জন করে সংসার চালাতে পারবেন।

আবু তাহেরও কারও করুণার ওপর নির্ভর করে বাঁচতে চান না। তাঁর প্রত্যাশা, একটি অটোরিকশা পেলে আবারও নিজের শ্রমে উপার্জনের সুযোগ তৈরি হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি কাজ করে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে চান।

আরও পড়ুন

নওগাঁয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, টাকা-স্বর্ণালংকার লুট

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের অভাব-অনটনের মধ্যেও আবু তাহের ভিক্ষাবৃত্তিতে যাননি। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে শ্রমের মাধ্যমে বেঁচে থাকার তাঁর চেষ্টা স্থানীয়দের অনুপ্রাণিত করে। তাঁদের মতে, একটি অটোরিকশা পেলে আবু তাহেরের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের জীবনেও কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রশাসন কিংবা কোনো মানবিক সংগঠন আবু তাহেরের পাশে দাঁড়ালে তিনি আবারও নিজের শ্রমে সংসারের হাল ধরতে পারবেন। তাঁদের কাছে একটি অটোরিকশা শুধু একটি যানবাহন নয়, বরং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: