কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত দেবাশীষ ও তার পরিবার-স্বজনের দাফন ও সৎকার সম্পন্ন

কলকাতার মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মরদেহ কুষ্টিয়ার বাড়িতে পৌঁছানোর পর শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে। প্রিয়জনের নিথর দেহ বাড়ির আঙিনায় পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা সিম্মিন, ছেলে শর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহের দাফন ও সৎকার সম্পন্ন হয়েছে।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুসলিম রীতিতে দেবাশীষ দত্তের স্ত্রী আফসানা সিম্মিন ও তার বাবা আকরাম আলীর মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়। অন্যদিকে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দিবাগত রাত ১টার পর কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে শর্ণশীষ দত্তের সৎকার সম্পন্ন হয়।
দাফন ও সৎকারে নিহতদের আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জেলার কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দেবাশীষের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে আফসানা সিম্মিন ও আকরাম আলীর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় নিহতদের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে শর্ণশীষ দত্তের কফিনবন্দি মরদেহ কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন দেবাশীষের মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীরা। শত শত মানুষের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ।
অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা সিম্মিন ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসায় পৌঁছালে সেখানেও কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
প্রিয়জনদের হারিয়ে স্বজনরা বলছেন, এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তারা কলকাতার ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা দেবাশীষের পরিবারের পাশে সরকারসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বজন, এলাকাবাসী ও জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা।
দেবাশীষের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিক, বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার বাড়িতে ছুটে আসেন। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তারা। পাশাপাশি শেষবারের মতো সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তকে শ্রদ্ধা জানান সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফসানা সিম্মিন (২৫), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) এবং শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪) নিহত হন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে চার দিন পর দেশে আসে নিহতদের মরদেহ।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার পরিবারসহ জেলার সাংবাদিক অঙ্গনে শোকের মাতম চলছে। অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ দত্ত ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। ১৯ আগস্ট তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে এর আগেই কলকাতার মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তিনি ও তার পরিবারের তিন সদস্য।
ভোরের আকাশ/সু.পা