রাজবাঁধে শিগগিরই চালু হচ্ছে মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগার - নজরুল ইসলাম মঞ্জু

খুলনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে তিনটি প্ল্যান্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডুমুরিয়ার সলুয়ায় স্থাপিত বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট আগামী ডিসেম্বরে চালু হবে। এ ছাড়া বটিয়াঘাটার মাথাভাঙ্গায় আরেকটি বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট এবং রাজবাঁধ ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডে মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগার চালুর অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনার সহযোগিতায় গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কেসিসি প্রশাসক বলেন, তিনটি প্ল্যান্ট চালু হলে মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নত বিশ্বের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। তবে পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগরী গড়ে তুলতে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রচলিত ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. রেজাউর রহমান, সহকারী পরিচালক ডা. মোস্তফা আল মামুন, খুলনা সিটি করপোরেশনের কনজারভেন্সি অফিসার মো. আনিসুর রহমান এবং হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. সাজ্জাদুল হাসনাত খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান।
কর্মশালায় হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বর্জ্য যথাযথভাবে পৃথকীকরণ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও অপসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রশিক্ষণে হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব করতে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা