এবার দেশ গড়ার পালা, নেতাকর্মীদের জনগণের দায়িত্ব নিতে হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে ৩১ দফার আলোকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগামী ঈদুল ফিতরের পূর্ব থেকেই জনগণ 'ফ্যামিলি কার্ড'-এর সুফল পেতে শুরু করবে। সকল মায়েরা পরিবারের মুরুব্বি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে এই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। কার্ড বিতরণে মায়ের কোনো ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। এখানে কোনো তদবির চলবে না, কারও কাছে ধরনাও দিতে হবে না। অন্যান্য মন্ত্রণালয়সহ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই সুবিধা আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবে, ইনশাআল্লাহ। ঐক্যবদ্ধভাবে এ কাজে আপনারা সহযোগিতা করবেন।”
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে 'একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
অতীতের শিক্ষা ও আগামীর বাংলাদেশ
মন্ত্রী বলেন, “বিরামপুর কলেজ মাঠে তারেক রহমানের জনসভাটি ছিল এযাবৎকালের মধ্যে বাংলাদেশে আসার পর বৃহত্তম এবং সুশৃঙ্খল একটি জনজমায়েত। সেজন্য আমি আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে হবে। গত ১৮ বছরের দুঃখ-বেদনা এবং তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে গিয়ে মানুষ যেন আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, আমাদের সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।”
নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা
বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের দায়িত্ব এখন অপরিসীম। আমাদের নেতা বলেছেন— 'এবার দেশ গড়ার পালা'। সেই দেশ গড়ার সৈনিক হিসেবে আপনাদের কাজ করতে হবে। কোথাও যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়; কোনো দখলদারি, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাস না থাকে এবং মানুষের ওপর জুলুম না হয়— সেটি খেয়াল রাখার দায়িত্ব আপনাদের।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মনে রাখতে হবে, এই দেশ আমাদের সবার। সনাতন ধর্মাবলম্বী, আদিবাসী, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা মুসলিম— যারাই হোক, আমাদের বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশি, আমরা বিরামপুরবাসী। কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনকে তাদের কাজ করতে দিন, আপনারা তাদের সহযোগিতা করুন।”
উন্নয়ন ও জনসেবার অঙ্গীকার
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “মানুষ যাতে আপনাদের দিকে আঙুল তুলতে না পারে, বরং আপনার পাশে এসে দাঁড়ায়— এমন আচরণ করুন। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নেতাদের বলব, আপনারা ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে বসুন। মায়েরা অভিযোগ করেছেন রাস্তা খারাপের জন্য মেয়েদের বিয়ে হতে চায় না। আমরা চাই প্রতিটি রাস্তা চলাচলের উপযোগী ও পাকা হবে। আদিবাসী বা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গ্রামগুলোর রাস্তাও সমানভাবে উন্নত হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে যদি এসব কাজ দৃশ্যমান না হয়, তবে তার দায় আপনাদের নিতে হবে।”
শিক্ষা ও অবকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্কুল মেরামতের তালিকা তৈরি করে শিক্ষা অফিসার এবং পিআইও-র সাথে বসুন। নদী ভাঙন রোধ এবং নদী খননের প্রস্তাব সরাসরি আমাকে দেবেন। ছোট যমুনা নদীর ওপর আরও অন্তত ২-৩টি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে ইনশাআল্লাহ। ড্রেনেজ সিস্টেম এমন হবে যাতে জলাবদ্ধতা না হয়। খাল-বিল খনন করে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা হবে যেন সেচের কাজে সুবিধা হয় এবং ডিপ টিউবওয়েলের ওপর চাপ কমে।”
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি'র সভাপতি অ্যাডভোকেট মো.মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, বিরামপুর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আলহাজ্ব মিঞা মো. শফিকুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নূর ইসলাম, পৌর বিএনপি'র সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির মিলন ও সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম রেজু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান রেজা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জীবন চৌধুরী শাহীন, সদস্য সচিব ও জেলা যুবদলের সদস্য অ্যাডভোকেট মিঞা মো. শিরন আলম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক তসলিম উদ্দিন মন্ডল, সদস্য সচিব পলাশ বিন আসরাফি, উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান বাবু, সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল নোমান ও সদস্য সায়েবীন আলম, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আমির হামজা, সদস্য সচিব মো. মারুফুর রহমান মিঠু, যুগ্ম আহ্বায়ক বাদশা মোহাম্মদ নাজ্জাশী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শফিকুর রহমান দুলাল, সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম অমি, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আব্দুর রব তোতা ও সদস্য সচিব মো. আরিফুর রহমান রাসেল প্রমুখ।
এর আগে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন নবাবগঞ্জ উপজেলা চত্বরে উপস্থিত হলে তাঁকে ফুলেল উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা (পিপিএম)।
এ সময় জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল মন্ত্রীকে 'গার্ড অব অনার' প্রদান করে। মন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকার নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুরেও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ