চট্টগ্রাম
আবর্জনা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহী চীনা প্রতিষ্ঠান

চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে চীনের সিভিয়া-চায়না হার্বার-অর্চার্ড কনসোর্টিয়াম।
তারা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নগরীর কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রস্তাব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে উপস্থাপন করেছে।
মঙ্গলবার টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন চায়না হার্বার বাংলাদেশের প্রধান, সিভিয়ার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান এবং অর্চার্ড ডেভেলপারস অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের শীর্ষ কর্মকর্তা।
কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা জানান, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। চীনে তারা ইতোমধ্যে ৪১টি আধুনিক বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করছে। এসব প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি উৎপাদনও সম্ভব হচ্ছে।
বৈঠকে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং বন্দরনগরী। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হওয়ায় সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এগুলোকে সম্পদে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত বিশ্বের অনেক শহর বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং চট্টগ্রামেও সেই ধারণা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বর্জ্য অপসারণ নয়, বরং এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার অংশ। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং বিকল্প জ্বালানির নতুন উৎস তৈরি হবে। এতে টেকসই নগর উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।
মেয়র জানান, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নগর উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর কারিগরি সক্ষমতা, আর্থিক কার্যকারিতা এবং পরিবেশগত প্রভাব বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
সভায় সম্ভাব্য প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও কারিগরি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
ভোরের আকাশ/ র.ই