চকরিয়ায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এক রোগীর লিখিত অভিযোগের পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই অভিযোগে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একটি ফার্মেসিতে বসে আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গুলিস্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজান (২৯) চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে শাহজান বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কোমরব্যথা ও গ্যাসজনিত সমস্যার চিকিৎসার জন্য চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল সড়কের সোনালী ফার্মেসিতে চেম্বার করা ডা. মো. খালিদ সাইফুল্লাহর শরণাপন্ন হন। সেখানে এক্স-রে করার পর বিভিন্ন সময়ে চার দফায় তাকে আটটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। চিকিৎসার পর তার অবস্থার উন্নতি না হয়ে বরং ইনজেকশন দেওয়া স্থানে সংক্রমণ দেখা দেয় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও বলেন, গত ১৭ জুলাই চকরিয়া জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারের এক অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হলে তাকে জানানো হয়, তার সমস্যার ক্ষেত্রে ওই ধরনের চিকিৎসা উপযুক্ত ছিল না। বর্তমানে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে বলেও তাকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে চেম্বার থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শাহাজাহান।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. মো. খালিদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন, রোগীর কোমরের ব্যথা উপশমে ডেপো-মেড্রল ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। পরে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু রোগী নিয়মিত ওষুধ সেবন না করায় জটিলতা বেড়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা বা ভুল হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি চীন থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং যুক্তরাজ্য থেকে এমআরসিপি পার্ট-১ সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি ফার্মেসিতে আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলে একজন চিকিৎসক এসব পরীক্ষা করতে পারেন।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক সার্জন ডা. সুজন ত্রিপুরা বলেন, ডেপো-মেড্রল (মিথাইলপ্রেডনিসোলন অ্যাসিটেট) একটি কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন, যা নির্দিষ্ট কিছু রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কোমরের নির্দিষ্ট স্থানে এ ধরনের ইনজেকশন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ইমেজিং গাইডেন্স ও উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/রই