প্রতারণা মামলায় সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মিলন কারাগারে

বগুড়ায় প্রতারণার মামলায় পুলিশের সদ্য বরখাস্ত হওয়া সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল হক মিলনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান পুলিশের সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে বগুড়া শহরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পেছনে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে ফ্লাট বিক্রয়ের কথা বলে ছয়জনের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ করে টাকা নেয় অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেধা টাওয়ার। চুক্তি অনুযায়ী সেখানে দশতালা ভবনও গড়ে তোলে পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর শাহজাদী আলম লিপির এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তবে ওই ছয় ব্যক্তিকে তাদের পাওনা অনুযায়ী ভবনের ফ্লাট বুঝিয়ে দিতে তালবাহানা শুরু করেন অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল ও তার স্ত্রী। এই ভবনে নুর আলম, তার স্বজনদের সঙ্গে ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিলে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তিপত্রের দীর্ঘদিন পার হলেও তাদের তা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন না তারা।
চুক্তিনামা অনুযায়ী, পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে ৫ লাখ টাকা এবং ফ্লাট নির্মাণ চলাকলে ৯০ শতাংশ টাকা ১ নম্বর আসামি শাহজাদী আলমকে দেওয়া কথা ছিল। আর বসবাসের উপযোগী করে অবশিষ্ট ১০ শতাংশ টাকা দেওয়ার কথা। এছাড়া ৪২ মাস সময়ের মধ্যে আসামিরা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে না পারলে অন্যত্র বাড়ি ভাড়ার জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা হিসাবে দিতে বাধ্য থাকবেন বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এক পর্যায়ে চুক্তিনামার কোনো শর্ত পালন না করায় আসামিদের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রির টাকা ফেরত দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু তারা ফ্ল্যাট বা টাকা বুঝিয়ে দিতে তালবাহানা শুরু করেন। পরে উপায় না পেয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশও দেন মামলার বাদী ও তার স্বজনেরা। পরে চলতি বছরে নুর আলম বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. লিলুস জানান, বাদল সিদ্দিকী, মিন্টুসহ তিনজনের কাছে ফ্ল্যাটের চুক্তিপত্র করার পরে তা অন্য আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা ৪০৬ এবং ৪২০ ধারায় অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। আজ সেই মামলায় উভয় পক্ষের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত বছর ২১ আগস্ট হামিদুল ও তার স্ত্রী শাহজাদী আলমের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন জাহেদুর রহমান তোফা নামের এক ভুক্তভোগী। একই অভিযোগে আদালতে পৃথক আরো দুটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন নূর আলম এবং ফোরকান আলী নামের ভুক্তভোগী। তবে সোমবার তোফার মামলায় আদালতে হাজির হলে বিচারক পুলিশের সাবেক এই প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ