চট্টগ্রাম স্টেশনে ঈদযাত্রীর ভিড়, বাড়তি প্রস্তুতি রেলওয়ের

ঈদকে সামনে রেখে বাড়িমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে ট্রেনে। সড়কপথের যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই এখন রেলপথকে বেছে নিচ্ছেন।
ট্রেন কিছুটা দেরিতে ছাড়লেও যাত্রীদের মুখে রয়েছে স্বস্তির হাসি। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন নগরবাসী।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২৩ মে থেকে পাঁচ দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। একইসঙ্গে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের সুবিধার্থে ফিরতি টিকিটও বিশেষ ব্যবস্থায় বিক্রি করা হচ্ছে।
রোববার (২৪ মে) বিক্রি হচ্ছে ৩ জুনের যাত্রার টিকিট। এদিন দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদের অগ্রিম টিকিট ফেরতযোগ্য নয়। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন এবং একাধিক টিকিটের ক্ষেত্রে সহযাত্রীদের নাম উল্লেখ করতে হবে।
ঈদযাত্রার প্রথম দিন থেকেই চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ছিল বাড়তি ভিড়। দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি দেখা গেছে। অনেকে পরিবারকে আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ পুরো পরিবার নিয়ে রওনা হচ্ছেন। ফলে প্রায় সব আন্তঃনগর ট্রেনেই ছিল উপচে পড়া ভিড়।
বিশেষ করে বিজয় এক্সপ্রেস, পাহাড়িকা-উদয়ন এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলী ও মেঘনা এক্সপ্রেসে যাত্রীর চাপ ছিল বেশি। বাড়তি যাত্রী সামাল দিতে অধিকাংশ আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ২৫ মে থেকে স্টেশনগুলোতে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে এবং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই ভিড় অব্যাহত থাকবে।
ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন ১৬ জোড়া ট্রেনে প্রায় ১০ হাজার যাত্রী আসন নিয়ে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এছাড়া ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, অগ্রিম, স্পেশাল ও স্ট্যান্ডিং টিকিট মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজারের বেশি যাত্রী ঈদযাত্রা করতে পারবেন। এছাড়া ঈদের দুই দিন আগে থেকে চট্টগ্রাম-চাঁদপুরসহ বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেন চালু করা হবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই