কবিরাজের কক্ষে ধর্ষণ, ভুয়া সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ৪

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় এক কথিত কবিরাজসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে কেঁওচিয়া ইউনিয়নে ২নং ওয়ার্ডে মাস্টার পাড়ায় সংঘটিত এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পটিয়া উপজেলার লাউয়ের খীল গ্রামের ৩২ বছর বয়সী এক নারী তার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার আশায় শুক্রবার দুপুরে কেঁওচিয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া বৈদ্যবাড়ি এলাকার কথিত কবিরাজ সজল কান্তি দাশের কাছে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, সজল কান্তি দাশ তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কবিরাজকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, ধর্ষণের ঘটনার কিছুক্ষণ পর একই বাড়িতে আরেকটি ঘটনা ঘটে। কবিরাজের স্ত্রী ঝর্ণা রানী দাশের দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলার তিন যুবক জোরপূর্বক তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে নিজেদের অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক পরিচয় দেন। তারা ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার কথা বলে সজল দাশের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ সময় ঝর্ণা রানীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তিন যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বাঁশখালীর মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), নুরুল আবছার (৪২) এবং আনোয়ারার মো. জয়নাল উদ্দিন (৩১)।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, আটক তিন ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। তারা নিবন্ধনহীন অনলাইন ফেসবুক পেইজে কাজ করার দাবি করলেও তারও কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, একই দিনে দুটি পৃথক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের অভিযোগে একজন এবং সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই