কুড়িগ্রামে সবুজের স্বপ্ন বুনে দিলো ১০ হাজার কাঁঠাল চারা

শিশুদের ছোট্ট দুই হাতে যখন তুলে দেওয়া হলো কাঁঠালের কচি চারা, তখন তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠল আগামী দিনের এক সবুজ স্বপ্নের ঝিলিক। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নন্দনপুর প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এমনই এক মুহূর্তের সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। এদিন ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে কাঁঠালের চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল দীর্ঘ তিন বছরের এক ব্যতিক্রমী পরিবেশ-সচেতনতামূলক কর্মসূচির। যেখানে জেলার ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হয়েছে ১০ হাজার কাঁঠালের চারা।
কুড়িগ্রাম গ্রিন ইকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং রিনিউ নাউ ও গ্লোবাল সিটিজেন ফর ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় গত তিন বছর ধরে চলে আসছিল এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। শুধু চারা বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই উদ্যোগ জেলার ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা হয়েছে গ্রিন ইকো ক্লাব, যাতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষার শিক্ষা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে চারা হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেনি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাশেদ। উজ্জ্বল মুখে সে বলে, "আমি খুবই খুশি। বাড়িতে গিয়ে নিজ হাতে গাছটি রোপণ করব, প্রতিদিন পানি দেব আর দেখব কীভাবে বড় হয়।" তৃতীয় শ্রেণির ছোট্ট মারুফার কণ্ঠেও একই উচ্ছ্বাস। সে জানায়, "মায়ের সহযোগিতা নিয়ে গাছটি লাগাব। বড় হয়ে যখন কাঁঠাল ধরবে, তখন সবাইকে খাওয়াব।"
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম পিটিআই'র ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ড ও গ্রিন ইকো ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা জাতির ভবিষ্যৎ, তাই পরিবেশ দূষণ রোধে প্রথমেই প্রয়োজন পলিথিনের যত্রতত্র ব্যবহার বন্ধ করা। আর এই সচেতনতা গড়ে তোলা উচিত পরিবার থেকেই।
নন্দনপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম হোসেন রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গ্রিন ইকো ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সুব্রত ভট্টাচার্য, নন্দনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান, ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান সঞ্জয় চৌধুরী, জেলা সমন্বয়ক অপর্ণা রায়, কুঞ্জ বিহারী রায়, তমাল হোসেন এবং নাগেশ্বরী উপজেলা সমন্বয়ক সুমন চন্দ্র সেন।
গ্রিন ইকো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জয় চৌধুরী বলেন, জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন রোধে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগের প্রথম ধাপ নেওয়া হয়েছে। তিন বছরের এই যাত্রা শেষে আজ যে ১০ হাজার কাঁঠালের চারা কুড়িগ্রামের মাটিতে শেকড় গাড়তে চলেছে, তা কেবল বৃক্ষরোপণ নয়, শিশুমনে পরিবেশ-সচেতনতার বীজ বপনেরও এক নিরব প্রচেষ্টা। রাশেদ-মারুফাদের মতো শত শত শিক্ষার্থীর হাতে লাগানো এই চারাগুলো একদিন ফলবতী হয়ে উঠবে, আর তার সঙ্গে সবুজ হয়ে উঠবে কুড়িগ্রামের ভবিষ্যৎও।
ভোরের আকাশ/ এনউব