জমি নিয়ে বিরোধ
শ্রীপুরে বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, শিশুসহ আহত ৫

গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীর ভাড়া বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষকদল নেতা শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আট মাস বয়সী এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার কেওয়া দক্ষিণখণ্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আজুফা (৪০)ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ভাউলিয়াপাড়া গ্রামের তাফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী। ঘটনার পর ও-ই নারী বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযুক্ত শাহজাহান পৌর কৃষক দলের আহবায়ক।
আজুফার অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে কেওয়া মৌজার গারোপাড়া এলাকায় ৫ গণ্ডা জমি ১৮ লাখ টাকায় কেনার জন্য স্থানীয় আবুল হোসেনের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী ৬ লাখ টাকা বায়না দিয়ে জমির দখল বুঝে নিয়ে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে বাকি টাকা পরিশোধ করে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে বললে অভিযুক্তরা বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকেন এবং তাকে উচ্ছেদের হুমকি দেন।
তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক শাহজাহান মিয়ার নেতৃত্বে মো. ফারুক মিয়া, আবুল হোসেন, তারা মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে।
হামলা ঠেকাতে গেলে আজুফার বাম চোখের উপর ইট দিয়ে আঘাত করে। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা জেসমিন, রাশিদা, নার্গিস ও সালমাকেও মারধর করে শ্লীলতাহানি করে।এ ছাড়াও আজুফার আট মাস বয়সী নাতি সাইফানকে ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানা থেকে তুলে মাটিতে আছাড় দেওয়া হয়, এতে শিশুটি আহত হয়।
হামলাকারীরা বসত ঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে আতংক সৃষ্টি করে। এসময় হসমলাকারীরা স্বর্ণালংকার মূল্যবান জিনিসপত্র ও নগদ অর্থ সহ প্রায় কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক শাহজাহান মিয়া বলেন,দীর্ঘদিন যাবত ওই নারীর সাথে আবুল হোসেনের একটি বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য এর আগে আমি সালিশ করেছি, কোন সমাধান হয়নি।ওই নারীর বাড়িতে হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।আর যদি আমার দলের কোন লোকজন সেখানে যায় তাহলে আমি কি করবো? আমি তো আর সেখানে যাইনি।
শ্রীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক এসআই কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই