শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সরিষা চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন নরসিংদীর কৃষকরা

নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

নরসিংদী জেলার সর্বত্র বিভিন্ন গ্রামের মাঠে সরিষা খেতের হলুদ রংঙের ফুল প্রকৃতি প্রেমীকদের মুগ্ধ করেছে। নরসিংদী জেলার কৃষকরা এবার সরিষা চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন।

জেলার ৬টি উপজেলায় গ্রাম এলাকায় বর্তমানে হলুদের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে সবুজের মাঠজুড়ে হলুদ রঙের সরিষার ফুলের হাসি। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় নরসিংদীতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সরিষার চাষ। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার অধিক ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরিষার চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম হওয়ায় অনেক কৃষক এই ফসল চাষে ঝুঁকেছেন। সরিষা তোলার পর একই জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে।

সরিষা বেলে, দো-আঁশ মাটিতে ভালো হয়। সরিষা চাষে প্রচুর রোদ, কম তাপমাত্রা ও জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকা প্রয়োজন। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ও মাটিতে রসের অভাব হলে বীজের আকার ছোট হয় ও বীজে তেলের পরিমাণ কমে যায়। এ জন্য বাংলাদেশে রবি মৌসুমেই সরিষার চাষ করা হয়ে থাকে।

সূত্রটি আরো জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ৬টি উপজেলায় ৭ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। তম্মধ্যে উফশী জাতের ৭ হাজার ২৫৮ এবং স্থানীয় জাতের ১৭৭ হেক্টর জমি রয়েছে। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে নরসিংদী জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় সরিষার চাষ করা হয়।

নরসিংদী জেলার সব উপজেলায় কমবেশি সরিষা উৎপাদন হয়। তবে জেলার নরসিংদী সদর ও রায়পুরা এই দুই উপজেলায় অন্য চারটি উপজেলার চেয়ে অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি জমিতে সরিষা উৎপাদন হয়।

উপজেলা ওয়ারী হিসেবে নরসিংদী সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৪৬ হেক্টর, পলাশে ১৪৫ হেক্টর, শিবপুরে ২৭০ হেক্টর, মনোহরদীতে ৫৪৮ হেক্টর, বেলাবতে ৪০৯ হেক্টর ও রায়পুরায় ২ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের সমারোহ। ফুলে ফুলে ভরে গেছে সরিষার খেত।

শিবপুর উপজেলার ভুরভুরিয়া গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, আমন ধান কাটার পর জমি কয়েক মাসের জন্য পরিত্যক্ত থাকে ওই জমিতে অতিরিক্ত ফসল হিসাবে সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। ইতোমধ্যে কোনো কোনো খেতে সরিষার দানা বাঁধতে শুরু করেছে। আবার কোথাও ফুল ফুটেছে।

সদর উপজেলার রসূলপুর গ্রামের সরিষা চাষি কাউসার মিয়া জানান, এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ফলন পাওয়া যায় ৫ থেকে ৭ মণ। প্রতিমণ সরিষার মূল্য ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা।

রায়পুরা উপজেলার ডৌকারচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের চাষি আব্দুল লতিফ সরকার বলেন, এবার প্রায় ১০০ শতাংশ জমিতে উফশী জাতের সরিষা চাষ করেছি, তবে এ বছর ঘন কুয়াশার কারনে ফলন বেশী ভাল হয়নি। এছাড়া সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ার কারনেই এমন অবস্থা হয়েছে। একই গ্রামের সরিষা চাষি মো: ইব্রাহিম সরকার বলেন, আমি বাপ-দাদার আমল থেকে সরিষার চাষ করে আসছি। এ বছর তিনি ২৪ গন্ডা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। ফলনও খুব ভাল হয়েছে। তিনি জানান, সরিষার তেল খুবই উপকারী-আমি এবং আমার পরিবারের লোকেরা সরিষার তেল ব্যবহার করি। সরিষার তেল মাথায় দিলে চুল পাকেনা। চুল সব সময় কালো থাকে। কিন্তু আমরা সোয়াবিন তেল খেয়ে শরীর নষ্ট করে ফেলেছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. সালাহ উদ্দিন টিপু জানান, সরিষা চাষে কৃষকরা যেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছেন তা অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের আরও একটি সাফল্য। দেশি জাতের সরিষার ৬০ থেকে ৭০ দিনে এবং উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা উঠতে সময় লাগে ৭৫ থেকে ৮০ দিন।

তিনি আরও বলেন, সরিষার আবাদ বৃদ্ধি হলে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়বে এবং তেলের আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে।

ভোরের আকাশ/মো.আ.

নরসিংদী

শেয়ার করুন: