লাঠিখেলার ছন্দে ফিরল গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, মুগ্ধ দর্শকরা

লাঠির ঘূর্ণি, ঢোলের তালে তালে ছন্দময় কসরত মুহূর্তেই যেন জীবন্ত হয়ে উঠল গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এক ঐতিহ্য। একসময় গ্রামীণ বিনোদনের প্রধান আকর্ষণ ছিল লাঠিখেলা, কিন্তু আধুনিকতার ভিড়ে সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন প্রায় বিলুপ্ত। তবে জামালপুর শহরের নাছিরপুরে ‘দুর্বার সংঘ’-এর উদ্যোগে আবারও প্রাণ ফিরে পেল এই ঐতিহ্যবাহী খেলা।
বাংলা নববর্ষকে ঘিরে শনিবার বিকেলে নাছিরপুর এলাকার একটি মাঠে আয়োজন করা হয় লাঠিখেলার। নির্ধারিত সময় বিকেল চারটায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে শুরু হয় খেলা। এর আগেই বাদ্যযন্ত্রের তালে পরিবেশ জমিয়ে তোলেন লাঠিয়াল দলের বাদকরা।
খেলা শুরুর আগেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা লাঙ্গলজোড়া, মাছিমপুর, শরিফপুরসহ দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে জড়ো হন মাঠে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়।
দর্শকদের অনেকে জানান, একসময় আমন ধান কাটার পর গ্রামের মাঠগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠত নানা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে। লাঠিখেলা, গাদন, ডাংগুলি, ফুটবল সব মিলিয়ে ছিল আনন্দের এক ভিন্ন জগৎ। পাশাপাশি যাত্রাপালা ও জারিগানের মতো আয়োজনও ছিল নিয়মিত। এখন এসব আয়োজন খুব কমই দেখা যায়, তাই এই উদ্যোগ তাদের মধ্যে পুরনো দিনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে।
খেলা দেখতে আসা এক দর্শক বলেন, লাঠিয়ালদের দক্ষতা, কৌশল আর সাহসিকতায় ভরা পরিবেশনা তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। অনেকদিন পর যেন ফিরে গিয়েছিলেন শৈশবের সেই সোনালি দিনে।
আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, দুপুর থেকেই দর্শকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। লাঠিয়ালদের প্রতিটি কৌশল ও প্রদর্শনীতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, হাততালি আর আনন্দ পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
তাদের মতে, লাঠিখেলা শুধু বিনোদন নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভোরের আকাশ/নি