বছর পেরোলেও ‘ম্যাজিস্ট্রেট সংকটে বন্ধ রয়েছে উচ্ছেদ,প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় জনমনে ক্ষোভ

কুষ্টিয়া শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা কলেজ মোড়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য ‘ম্যাজিস্ট্রেট সংকট’-এর অজুহাতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং এ ঘটনার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এর হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজ মোড় কুষ্টিয়া শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও আদালতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যাতায়াতের প্রধান সংযোগস্থল। দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে পৌরসভার সড়ক ও ড্রেনের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি।একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, তৎকালীন পৌর প্রশাসকের সময় উচ্ছেদ অভিযানের মাত্র দুই দিনের মাথায় রাতের আঁধারে সওজ বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসন শেড ভেঙে সেখানে নতুন করে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক জেলা প্রশাসকের আমলে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।তবে সরকারি জমিতে কীভাবে এবং কার অনুমতিতে এসব দোকান নির্মিত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক নথি বা অনুমোদনের তথ্য দেখাতে পারেনি কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ।এ ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তত্কালীন জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হলেও এখনো উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়িত হয়নি।সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, শহরের অন্যতম যানজটপ্রবণ এই এলাকায় সরকারি জমি দখল করে জনদুর্ভোগ বাড়ানো হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি রহস্যজনকভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি জমি দখল করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। অথচ দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করুক।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করীম বলেন, কলেজ মোড়ে সওজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কোয়ার্টারের জমি সম্পূর্ণভাবে সড়ক বিভাগের রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি। সেখানে শেড ভেঙে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি দোকানদারকে নতুন করে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছি এবং উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ চেয়ে আবেদন করেছি। গত জাতীয় নির্বাচন ও বারবার ম্যাজিস্ট্রেট সংকটের কারনে এখনো উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। আবেদন করার চার মাস পার হলেও এখনো কোনো ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত দখলদারদের একজন উজ্জ্বল নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন জমিটির এখনো ডিমারগেশন (সীমানা নির্ধারণ) হয়নি। তবে জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও উচ্ছেদের পর রাতের আঁধারে দ্রুত দোকান নির্মাণের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি বলেন আপনি সরাসরি এসে কথা বলেন।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন অবৈধ দখল থাকলে বিষয় টি দেখবো আমরা।
ভোরের আকাশ/ এনউব