কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে, কমবে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে একটি আধুনিক ও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এর ফলে কোন অঞ্চলে কী পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, কোথায় কত চাহিদা রয়েছে এবং কীভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এসব তথ্য সরকারের কাছে সহজেই সংরক্ষিত থাকবে। এতে উৎপাদন ও বাজারের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস-এ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, নতুন কৃষক কার্ড শুধু ধান, গম কিংবা পাটচাষিদের জন্য নয়; বরং লবণ, সুপারি, নারিকেল, পান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এর আওতায় আসবেন। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা, উৎপাদনের ধরন এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা, স্বল্পসুদে ঋণসহ সরকারি সব ধরনের সহায়তা এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমেই প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদনের সঙ্গে বাজারের চাহিদার ভারসাম্য না থাকায় অনেক সময় কৃষকদের লোকসান গুনতে হয়। এই সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন পর্যায়ে সৌরশক্তিচালিত ক্ষুদ্র কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব সংরক্ষণাগার চালু হলে কৃষকরা মৌসুমে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিক্রি করতে পারবেন, ফলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন, কৃষি ভর্তুকি এবং বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরও কেন আমদানির প্রয়োজন হয় এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দেশের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ সীমিত। এছাড়া প্রতি বছর হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু ফসলের ক্ষতি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পরিপক্ব হওয়া ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং জলাবদ্ধ এলাকায় ধান কাটার উপযোগী আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষিযন্ত্র নিয়ে গবেষণা চলছে।
চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাট-এর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে থাকার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে। কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়া ও বাজারে দাম বাড়ার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ঝাটকা সংরক্ষণ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ বন্ধ রাখতে জেলেদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা দাদনের ওপর নির্ভরশীল না থাকেন। সরকারের লক্ষ্য দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির পরিমাণও বাড়ানো।
তিনি আরও জানান, নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, চর অপসারণ এবং উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জনবলও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব