শিরোনাম
শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদের দুই নবনির্বাচিত সদস্যরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীনিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীঘন কুয়াশার কারণে রেড অ্যালার্ট জারি করল আমিরাতমিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ পালটাপালটি ধাওয়া, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধরাজধানীতে ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে আটক ৫৪৯ইউক্রেনের ত্রাণ কেন্দ্রে রুশ হামলায় ২৬ জন নিহত১২০ কিমি বেগে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদের দুই নবনির্বাচিত সদস্যরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীনিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীঘন কুয়াশার কারণে রেড অ্যালার্ট জারি করল আমিরাতমিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ পালটাপালটি ধাওয়া, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধরাজধানীতে ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে আটক ৫৪৯ইউক্রেনের ত্রাণ কেন্দ্রে রুশ হামলায় ২৬ জন নিহত১২০ কিমি বেগে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’

৩৭ বছর দলের সেবা, সরকারের কাছে আলমের প্রত্যাশা ছেলের চাকরি ও হজ পালন

রিফাতুন্নবী রিফাত,গাইবান্ধা

প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

‎চাইলেই হয়তো অন্য কোনো পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন। গড়ে তুলতে পারতেন নিজের ও পরিবারের জন্য সচ্ছল জীবন। কিন্তু রাজনীতির প্রতি ভালোবাসা আর দলের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা তাঁকে আটকে রেখেছে এক ভিন্ন জীবনে। এভাবেই কেটে গেছে জীবনের ৩৭টি বছর।

‎‎বলছি, গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্ব রামচন্দ্রপুর গ্রামের আলম সরকারের কথা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সামলাচ্ছেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয়ের কেয়ারটেকারের দায়িত্বও।

প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের বাড়ি থেকে অটোরিকশায় চড়ে জেলা শহরের বিএনপি কার্যালয়ে আসেন আলম সরকার। অফিস খোলা, নেতাকর্মীদের জন্য কার্যালয় প্রস্তুত রাখা এবং নিয়মিত দেখভাল ‎সবই তাঁর নিত্যদিনের কাজ।

কিন্তু যে মানুষটি বছরের পর বছর অন্যের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কার্যালয়ের দরজা খুলেছেন, তাঁর নিজের জীবনে সচ্ছলতার দরজা আজও খোলেনি। আধাভাঙ্গা টিনের ঘরে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে দিন কাটে তাঁর।

টিনের ফাঁক গলে আলো-বাতাস ঢোকে ঘরে, কিন্তু তাতে দূর হয় না অভাবের অন্ধকার। সীমিত আয় আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েছেন আলম সরকার। স্বপ্ন দেখেছেন, একদিন সন্তানদের হাত ধরে বদলে যাবে পরিবারের ভাগ্য।

এখন জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে তাঁর চাওয়া খুব বেশি নয়। একমাত্র ছেলের একটি চাকরি এবং জীবনের শেষ ইচ্ছা পবিত্র হজ পালন। সরকার প্রধান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তাঁর আকুতি দীর্ঘদিনের ত্যাগের কথা বিবেচনা করে যেন তাঁর পাশে দাঁড়ানো হয়।

‎আলম সরকারের এই দীর্ঘ পথচলার নীরব সাক্ষী তাঁর পরিবার। স্বামীর রাজনৈতিক ত্যাগের পাশাপাশি সংসারের টানাপোড়েনও কাছ থেকে দেখেছেন স্ত্রী মোরেফা বেগম। দীর্ঘদিনের সীমিত আয়ে সংসার চালানো, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা সবকিছুর মধ্যেও স্বামীর পাশে থেকেছেন তিনি।

এখন তাঁর প্রত্যাশা, জীবনের শেষ সময়ে এসে স্বামীর ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। শিক্ষিত ছেলের একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, আর পূরণ হবে স্বামীর পবিত্র হজ পালনের স্বপ্ন।

‎৩৭ বছরের রাজনৈতিক পথচলা, দলের জন্য নিরলস শ্রম আর ব্যক্তিগত জীবনের নানা অপূর্ণতা সব মিলিয়ে আলম সরকারের জীবন যেন ত্যাগের এক দীর্ঘ অধ্যায়। ‎‎দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।

আলমের ভাষ্য, রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন সময়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণও করেছেন তিনি। তবু দলের প্রতি ভালোবাসা থেকে সরে আসেননি। জিয়া পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা আর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রত্যয় নিয়েই পার করেছেন জীবনের দীর্ঘ সময়।

আরও পড়ুন

অসুস্থ লঞ্চযাত্রীকে কোস্ট গার্ডের চিকিৎসা সহায়তা

‎‎আলমের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদানের কথা তুলে ধরছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও। গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান বলেন, আলম দীর্ঘ দিন থেকে আমাদের সঙ্গে রয়েছে। তার চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছরেই হজে লোক পাঠানো হয়, যা সরকার বহন করে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি দেখে সৌভাগ্যক্রমে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আমাদের জেলার। তাকে বিষয়টি আমি অবগত করবো।

‎এখন প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের এই ত্যাগের মূল্যায়ন কি কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তব সহযোগিতা নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়াবে দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আলম সরকারের এই আকুতি পৌঁছাবে কি না, আর পূরণ হবে কি না তাঁর শেষ স্বপ্ন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন তিনি, পরিবার ও নেতাকর্মীরা।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: