সিরাজগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া কন্যা শিশুর নাম রাখা হলো 'খালেদা জিয়া'

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেঙনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে জন্ম নেওয়া নবজাতকের নাম রাখা হলো খালেদা জিয়া। নবজাতক এই খালেদা জিয়াকে একনজর দেখতে বিভিন্ন এলাকার উৎসুক জনতার ভিড় করছেন তার বাড়িতে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নবজাতক খালেদা জিয়াকে দেখতে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: আমিনুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার পরিবারকে নগদ অর্থ, পোষাক ও ফলমুল উপহার দেওয়া হয়েছে।এসময় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ডা. আ.ন.ম বজলুর রশীদ ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে নবজাতক শিশু খালেদা জিয়ার খোঁজ নেন ও তার পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালেক পাটোয়ারী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এসময় নবজাত খালেদা জিয়ার মা আম্বিয়া খাতুনের হাতে বাঁধাই করা জন্মসনদ ও সদ্যোজাত শিশুর যত্নের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন জেলা প্রশাসক। ওই জন্মসনদে নবজাতক শিশুটির নাম রাখা হয়েছে খালেদা জিয়া। এবং তার নিক নেম নাম দেওয়া হয়েছে ত্রয়ী।
আম্বিয়া খাতুন রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেঙনাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের শরীফুল ইসলামের স্ত্রী।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বেলা ১১টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেংনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যান তার গর্ভবতী স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন (৩৫)। কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর পরে তীব্র প্রসববেদনা অনুভব করেন আম্বিয়া খাতুন। পরে ভোটকেন্দ্রে থাকা নারী ভোটাররা তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তিনি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। পরে এ খবরটি ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রে আসা ভোটাররা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেন। এরপরে নবজাতকের নাম রাখা হয় খালেদা জিয়া। এদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে নিজ গ্রাম সহ আশপাশের গ্রাম থেকে উৎসুক জনতা নবজাতক খালেদা জিয়াকে এক নজর দেখতে তার বাড়িতে আসছেন।
নবজাতকের বাবা শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি খুব সৌভাগ্যবান, ভোট কেন্দ্রে আমার কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। আমি এখন দুই কন্যা সন্তানের বাবা হলাম। বিএনপিকে আমি ভালোবাসি। আর আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যু বরন করেছেন। তার নাম করনের জন্যই আমার মেয়ের নাম রেখেছি খালেদা জিয়া।
নবজাতক খালেদা জিয়ার মা আম্বিয়া খাতুন বলেন, গত ১৭ বছর আমরা ভোট দিতে পারিনি। এবার ভোট দেওয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ ছিলো। মানুষের মধ্যে উৎসহ উদ্দীপনা ছিলো। তাই আমিও বসে থাকিনি। পেটের মধ্যে সন্তান নিয়ে কষ্ট করে ভোট কেন্দ্রে গিয়েছি। এসময় আমার প্রচন্ড ব্যাথা শুরু হলে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় আমাকে। সেখানে আমার কন্যা সন্তান জন্ম হয়। আমার কণ্যা সন্তানের নাম রেখেছি খালেদা জিয়া। আমি ভীষণ খুশি হয়েছি ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে পেরে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম মন্ডল বলেন, নবজাতক খালেদা জিয়াকে একনজর দেখার জন্য দুর দুরন্ত থেকে লোকজন আসছে শরিফুলের বাড়িতে। এলাকায় এক ধরনের আনন্দ বিরাজ করছে। আমি আশা করি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে দেখতে আসবেন। এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো: নুরুল আমিন বলেন, আমরা মা ও মেয়ের স্বাস্থ্যের খবর নিতে এসেছি। আল্লাহর রহমতে তারা দু-জনেই ভালো আছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের পরিবেশ ভালো ছিল বলেই সন্তান সম্ভবা মা ভোট দিতে গিয়েছিলেন। ভোট দিতে গিয়ে তিনি ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়েছেন। তিনি ভোট কেন্দ্র কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। আমরা মা-মেয়েকে দেখতে এসেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে তার নাম রাখা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নামে। আমরা তার নিক নেম হিসেবে নাম দিয়েছি ত্রয়ী। আমরা যতদিন আছি এই পরিবারের পাশে থাকবো। নবজাতক যেন বড় হয়ে দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে এই দোয়া করি। আমরা তার জন্ম সনদ দিয়েছি।
ভোরের আকাশ/আ.র