মেহেরপুরে কচু চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা

চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আউশ ও আমন জাতের কচু চাষ হয়েছে।
অনুকূল আবহাওয়া, কম খরচ এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিদের মধ্যে কচু চাষের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। মেহেরপুরের মাটি কচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে বেলে-দোআঁশ মাটিতে ওল ও কচুর ফলন বাম্পার হয়।
এদিকে মাঠ পর্যায়ে চাষিদের উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ, সঠিক সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
কচু একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং পুষ্টিকর সবজি। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় এটি এ অঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে। সরকারিভাবে চাষিদের আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করা গেলে মেহেরপুরের কচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।
কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় কচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা এবার ছাড়িয়ে গেছে। মেহেরপুর সদর , গাংনী ও মুজিবনগরে আউশ কচু ১৬২০ হেক্টর এবং আমন কচু ৯০২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
সদরের পিরোজপুর গ্রামের কচু চাষি আলতাফ হোসেন জানান, ধান বা অন্য ফসলের চেয়ে কচু চাষে ঝুঁকি অনেক কম। তিনি বলেন, আমি এবার দুই বিঘা জমিতে আউশ কচুর চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, আর বর্তমান বাজারে যে দাম আছে, তাতে সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকবে বলে আশা করছি।
অন্য এক চাষি আমন কচু তুলে বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানান, আমন কচু একটু দেরিতে উঠলেও এর স্থায়িত্ব বেশি এবং বাজারে এর চাহিদাও থাকে চমৎকার।
মেহেরপুর পৌর প্রধান বাজারের পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, মেহেরপুরের কচুর মান ভালো হওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় বড় আড়তদাররা এখান থেকে কচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন টন কে টন কচু বাইরে চালান হচ্ছে। আউশ কচুর সরবরাহ এখন বাজারে বেশি, তবে আমন কচুর চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।
খুচরা বাজারে আসা ক্রেতা সুমনা আক্তার জানান, অন্যান্য সবজির দাম যখন একটু চড়া, তখন কচু বেশ সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিকর। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় বাজারে কচুর দাম কিছুটা বেড়েছে, তবুও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে।
বারাদি বাজারের কচু ব্যবসায়ী মিয়ারুল ইসলাম বলেন, আগাম আউশ কচু বিঘা প্রতি জমিতে ৭০-৮০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। বর্তমান বাজারে কচুর দাম কমেছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
অন্য দিকে আমন কচুর দাম বেশি প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এখন এক মাস ব্যবসা চলবে। বারাদি বাজারের দুই আড়তে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মন কচু জেলার বাইরে যায়।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, মেহেরপুরের মাটি বেলে-দোআঁশ মাটিতে ওল ও কচুর ফলন বাম্পার হয়। আমরা মাঠ পর্যায়ে চাষিদের উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ, সঠিক সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি।
তিনি আরও বলেন, অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় এটি এ অঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে। সরকারিভাবে চাষিদের আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করা গেলে মেহেরপুরের কচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।
বাজারে চাহিদার সাথে সমন্বয় রেখে চলতি মৌসুমে জেলায় চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কুচু উৎপাদন পরিকল্পনা করার বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, যাতে ফসলের সঠিক মূল্য পায়।
ভোরের আকাশ/ র.ই