ঈশ্বরগঞ্জের বিতর্কিত সেই পিআইও’র বদলি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে স্থায়ীভাবে এখনো কাউকে পদায়ন করা না হলেও গৌরীপুর উপজেলার পিআইও আলাল উদ্দিনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদায়ী পিআইও রেজাউল করিম ইতোমধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ থেকে রিলিজ নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। দুই-এক দিনের মধ্যেই অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পিআইও আলাল উদ্দিন যোগদান করবেন।
এর আগে গত ২০ নভেম্বর দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের (ত্রাণ প্রশাসন) শাখার উপসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রেজাউল করিমকে প্রশাসনিক কারণে ছাতক উপজেলায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
উৎকোচ-অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জানা গেছে, পিআইও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণ, ভ্যাট ও আয়করের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত ২৮ অক্টোবর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১১ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও দাখিল করেন তারা। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের টিআর ও কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে প্রতিটি কাজের বিপরীতে প্রায় ২৫ শতাংশ অর্থ ভ্যাট, আয়কর ও উৎকোচের নামে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিল-ভাউচার ও মাস্টাররোল সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি প্রকল্প থেকে অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগও আনা হয়।
ইউএনও’র মন্তব্য এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত সাপেক্ষেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর তাকে বদলি করেছে।”
চলমান প্রকল্পের কাজে এ বদলি কোনো প্রভাব ফেলবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গৌরীপুরের পিআইও অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করবেন। টিআর, কাবিখা-কাবিটাসহ সকল উন্নয়নমূলক কাজে আমরা স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠা বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি। উন্নয়নকাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।”
ভোরের আকাশ/এসএইচ