চাঁদপুরে অনলাইন প্রতারণা চক্রের আরও ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির নামে অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিমকার্ডসহ আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে একই চক্রের মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) চাঁদপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, চক্রটি ফেসবুক থেকে বিভিন্ন পণ্যের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে সম্পাদনার মাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলত। এসব পেজে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, কলম, জুতা, শিশুদের খেলনা, মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। পাশাপাশি অনলাইন চাকরির প্রলোভনও দেখানো হতো। বিজ্ঞাপন বুস্ট করে এবং ভুয়া মন্তব্য তৈরি করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করত চক্রটি।
ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহার করত তারা। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ও অডিও কলের মাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় দিয়ে নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করত। প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে ভুয়া ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স দেখানোর পাশাপাশি নকল ভাউচার ও ওয়েবসাইট তৈরি করা হতো। পরে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পণ্য সরবরাহ না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঁদপুর জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে গঠিত একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৬ অক্টোবর অভিযান শেষ করে দলটি চাঁদপুরে ফিরে আসে। পরে ১৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সুমন ভূঁইয়া, মো. সাইফুল ইসলাম মামুন ও অনিক অধিকারী। তাদের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া থানাধীন চাঁচুড়ী ও পেড়লী ইউনিয়নে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলা দুটি যথাক্রমে ২১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নথিভুক্ত হয়।
এর আগে একই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নতুন করে আরও তিনজন গ্রেপ্তার হওয়ায় এ পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভোরের আকাশ/আ.র