বছরে ক্ষতি অর্ধ হাজার কোটি টাকা
দখল-দূষণে মরে যাচ্ছে দাগনভূঞার দাদনা খাল

ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভা ও আশপাশ এলাকার প্রাণ বলা হয় ঐতিহ্যবাহী দাদনার খালকে। একসময় প্রবাহমান এই খাল এখন দখল ও দূষণে মারাত্মক সংকটে। খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা, পাশাপাশি নির্বিচারে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নাব্যতা হারিয়ে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। শুধু দাদনার খাল নয়, উপজেলার আরও অন্তত ৫টি খাল একই পরিস্থিতির শিকার। পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় জমি দীর্ঘসময় পানির নিচে থাকছে, কৃষকরা আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন এবং প্রতিবছর কৃষি উৎপাদনে বড়ো ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর কবিরহাট থেকে উৎপত্তি হয়ে দাগনভূঞা দিয়ে প্রবাহিত দাদনার খালের প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশ দাগনভূঞায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় দাগনভূঞা বাজার থেকে দুধমুখা মীরের পোল, পৌরসভা থেকে মকবুল টেক, ফেনী-চৌমুহনী খালসহ সেবারহাট, বৈরাগীরহাট, মিঠাকুয়া ও জগতপুর অংশে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত ও খাল ভরাট হয়ে গেছে। এতে বোরো, আমন, আউশ ও রবি মৌসুমের আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এসব খাল খনন ও সংস্কার করা গেলে প্রায় ১,০০০ হেক্টর জমি পুনরায় আবাদযোগ্য হবে। বন্যা ও অতিরিক্ত পানি জমে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে, রবি ও গ্রীষ্মকালীন সবজির উৎপাদন বাড়বে এবং বছরে প্রায় ৪০৫ থেকে ৫০০ কোটি টাকার কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধার সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, “খনন না হওয়ায় চাষাবাদে প্রতিবছর প্রায় ৫শ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হচ্ছে বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে বড় পরিবর্তন আসবে।”
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীদুল ইসলাম জানান, “চলতি মাসেই খাল দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।”
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “খাল খননের কোনো প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনে নেই। আমরা সুপারিশ পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।”
স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের দাবি, দাদনার খালসহ সব খাল পুনর্খনন ও দখলমুক্ত করতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন না হলে দাগনভূঞার কৃষিনির্ভর অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভোরের আকাশ/তা.কা