কুমিল্লায় গোমতী নদীর পরিবেশ চরম ঝুঁকিতে

কুমিল্লার গোমতী নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্বিচারে চলছে নদীর পাড় ও চরের মাটি কাটা। এক্সকাভেটর ব্যবহার করে গভীরভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, সেতু-কালভার্ট, ফসলি জমি ও গাছপালা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লা সদর উপজেলার গোলাবাড়ি ও কটকবাজার এলাকা থেকে শুরু করে বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন অংশে অন্তত দুই শতাধিক স্পটে দিন-রাত মাটিকাটা চলছে। এসব স্থান থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি মূল্যের মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত মাটির প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে ইটভাটায় এবং বাকি অংশ আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ভরাটে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পলিসমৃদ্ধ চরের জমি কেটে এবরো-থেবরো করে দেওয়ায় সবজি ও শস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। মাটি বহনের জন্য বেড়িবাঁধ কেটে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করায় অনেক স্থানে বাঁধ ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথাও কোথাও সড়ক ধসে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ছত্রচ্ছায়া এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এই মাটিকাটা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অভিযানের আশঙ্কায় দিনে কাজ সীমিত রেখে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত শতশত ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি সরানো হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে গোমতী নদী থেকে যে পরিমাণ মাটি কাটা হচ্ছে, বর্ষা মৌসুমে পলি জমে তার সামান্য অংশও পূরণ হয় না। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে নদীভাঙন ও বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, গোমতী নদীর পাড় ও চরের মাটি কাটার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তথ্য পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাটি বহনকারী যানবাহন জব্দসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/আ.ব