নারায়ণগঞ্জে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্থবিরতা, উদ্বেগে ভোটাররা

নারায়ণগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ভোটকেন্দ্র ঘিরে নিরাপত্তা ইস্যু ফের আলোচনায় এলেও জেলার বিভিন্ন থানায় লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় কয়েকটি থানায় হামলার ঘটনায় যে অস্ত্র, গুলি ও সরকারি সরঞ্জাম লুট হয়েছিল, তার উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো অনুদ্ঘাটিত রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলমান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে।
এলাকাবাসীর মতে, নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারে শিথিলতা বজায় থাকলে সহিংসতার ঝুঁকি বেশি হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে অতীত সংঘর্ষপ্রবণ ও আধিপত্য-সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে। ভোটাররা মনে করছেন, নির্বাচন সামনে রেখে কোনো ধরনের অশান্তি তৈরি হলে তার সরাসরি ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষই। তারা দ্রুত লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের তাগিদ দিয়ে বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে এখনই কঠোর তৎপরতা জরুরি।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার কার্যালয় জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের প্রক্রিয়া চলছে এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) তারেক আল মেহেদী বলেন, অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের প্রক্রিয়া আগের মতোই চালু আছে। আমরা পুরস্কার ঘোষণাও দিয়েছি, যাতে বাকি অস্ত্রগুলো দ্রুত পাওয়া যায়। নির্বাচনের আগেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে থানা, জেলা ও গোয়েন্দা ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
অন্যদিকে জেলার অতিরিক্ত নির্বাচন অফিসার রাকিবুজ্জামান রেনু জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তারা শিগগিরই বৈঠকে বসবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন পরিবেশ তৈরি করবো যাতে ভোটাররা খুশিমনে, নির্ভয়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতে পারে। উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন আমাদের লক্ষ্য।
ভোরের আকাশ/এসএইচ