হাতে মাইক, পায়ে পথ এগারো বছর ধরে নামাজের ডাক মোসলেম উদ্দিনের

ডান হাতে হ্যান্ড মাইক, বা হাতে ছাতা আর চোখে কালো চশমা আর পিঠে ঝুলানো একটি ব্যাগ। এভাবেই প্রতিদিন হাট-বাজার, শহর-বন্দর ঘুরে বেড়ান ৭০ বছর বয়সী মোসলেম উদ্দিন প্রধান। যেখানে মানুষের ভিড়, সেখানেই দাঁড়িয়ে হ্যান্ড মাইকে মানুষকে নামাজের আহ্বান জানান তিনি।
দীর্ঘ এগারো বছর ধরে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন এই মানুষটি। ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নয়, শুধু ধর্মীয় দায়িত্ববোধ আর মানুষের মাঝে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরতেই তার এই নিরলস পথচলা।
জানা যায়, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন প্রধান। বয়সের ভার শরীরে স্পষ্ট হলেও থেমে নেই তার পথচলা। প্রতিদিন ভোর হলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। পা-ই তার একমাত্র বাহন, আর লক্ষ্য একটাই মানুষকে নামাজের পথে ডেকে আনা।
তবে এই পথচলার শুরুটা ছিল ভিন্ন। প্রায় ৪০ বছর বয়সে পাটের ব্যবসাই ছিল তার জীবিকার প্রধান অবলম্বন। কিন্তু হঠাৎ ব্যবসায় লোকসানের মুখে পড়ে ভেঙে যায় সেই স্বপ্ন। জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান রাজধানী ঢাকায়।
সেখানে দীর্ঘদিন প্যাডেলচালিত রিকশা চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন। ঢাকাতেই জীবনের মোড় ঘুরে যায় তার। মসজিদের মুসল্লিদের তাগিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে নামাজ আর ধর্মীয় চর্চার প্রতি গভীর অনুরাগ জন্ম নেয় তার মনে। সেই অনুভূতিই পরে তাকে নামাজের দাওয়াতি কাজে উদ্বুদ্ধ করে।
প্রায় আট বছর আগে ঢাকাকে বিদায় জানিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন তিনি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিনে নেন একটি হ্যান্ড মাইক ও একটি ব্যাগ। তারপর থেকেই শুরু হয় তার ব্যতিক্রমী পথচলা।
বর্তমানে এ উপজেলার ধাপেরহাট, পচাবাজার, নলডাঙ্গা, মীরপুরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে মানুষকে নামাজের আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে নামাজের আহবানকারী মোসলেম উদ্দিন প্রধান বলেন, কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, নিজে নামাজ পড়ো, অন্যকেও নামাজের দাওয়াত দাও। আমি সেই দায়িত্বটাই পালন করার চেষ্টা করি। মানুষ আমার কথা শোনে, নামাজ পড়ে এতেই আমি শান্তি পাই। স্থানীয়দের কাছেও তিনি পরিচিত এক মুখ। এ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রায়ই দেখা মেলে তার।
স্থানীয় তোফায়েল হোসেন জাকির বলেন, মোসলেম চাচাকে প্রায়ই মাইক নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। তিনি মানুষকে নামাজের দাওয়াত দেন। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। বয়সের এই পর্যায়েও তিনি যে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি করছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”
জানা গেছে, সাত সন্তানের জনক মোসলেম উদ্দিন প্রধানের সংসারের দায়িত্ব মূলত বহন করেন তার ছেলে ইয়াসিন আলী। পোশাক কারখানায় চাকরি করে পরিবার চালান তিনি। তবে মোসলেম উদ্দিনের এই কাজের প্রতি পরিবারেরও রয়েছে পূর্ণ সমর্থন।
আরেক স্থানীয় যুবক শামিম মিয়া বলেন, মোসলেম চাচাকে প্রায়ই মাইক নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। তিনি মানুষকে নামাজের দাওয়াত দেন। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। বয়সের এই পর্যায়েও তিনি যে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি করছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
জানা গেছে, সাত সন্তানের জনক মোসলেম উদ্দিন প্রধানের সংসারের দায়িত্ব মূলত বহন করেন তার ছেলে ইয়াসিন আলী। পোশাক কারখানায় চাকরি করে পরিবার চালান তিনি। তবে মোসলেম উদ্দিনের এই কাজের প্রতি পরিবারেরও রয়েছে পূর্ণ সমর্থন।
জীবনের হিসাব-নিকাশে হয়তো তিনি একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু বিশ্বাস, দায়বদ্ধতা আর মানবিক আহ্বানের জায়গা থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদম্য পথিক। যিনি নিজের পথে হাঁটতে হাঁটতেই ডেকে চলেছেন মানুষকে নামাজের পথে, আলোর পথে।
ভোরের আকাশ/এনউব