গোপালগঞ্জে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি কম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় গোপালগঞ্জে ও সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই গোপালগঞ্জের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একদমই কম। প্রার্থী এবং স্থানীয়রা ভেবেছিলেন দুপুরের দিকে ভোটারের সংখ্যা বাড়বে। দুপুর গড়িয়ে গেলেও বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ কেন্দ্রই ভোটারের উপস্থিতি কম। তবে দুপুরের দিকে মহিলা ভোটারের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।
আওয়ামী লীগের দুর্গ খ্যাত গোপালগঞ্জে এবার নৌকা মার্কা নেই তাই ভোটারের সংখ্যা কম বলে মনে করছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থী সহ স্থানীয় বাসিন্দাগন। কিছু কিছু কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে সে সমস্ত কেন্দ্রে ভোটারদের থেকে কর্মীদের সংখ্যা বেশি।
গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারে এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। বিকাল ৩ পর্যন্ত হয়েছেও তেমনটি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতপাড় নিবাসী ভোটার মনির মোল্লা বলেন, আমরা আগেও অনেক নির্বাচন দেখেছি তবে এবারের মত দেখিনি। আমরা সব সময় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছি কিন্তু এবার তার উল্টো।
বৌলতলী ইউনিয়ন নিবাসী আরিফুল হক বলেন, আমরা সকালেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট অধিকার প্রয়োগ করেছি। সব মিলিয়ে আমরা সুষ্ঠু এবং সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছি।
গোপালগঞ্জ শহরতলীর অর্জুন বিশ্বাস বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে গোপালগঞ্জে যেভাবে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছিল তাতে আমরা আতঙ্কিত ছিলাম। তবে প্রশাসনের কঠোর উদ্যোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এতে আমরা খুশি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবারের সকলকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পেরেছি।
এই বিকাল তিনটা পর্যন্ত কত শতাংশ ভোট পড়েছে এমন প্রশ্ন করলে অধিকাংশ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এখনই তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তারা বলেন নির্বাচন এর সময় শেষ হলে আমরা তথ্য দিতে পারবো। তবে এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুপুর গড়িয়ে বিকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জ শহরের রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এতে শিশুসহ ২ আনসার সদস্য আহত হয়। তবে ভোটের কোন সমস্যা হয়নি। সেখানকার পরিবেশ বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া, গত রাতে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
এরপর থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা আরো করাকরি করা হয়েছে। বর্তমানে মাঠে যৌথ বাহিনীর টহল লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এদিকে গোপালগঞ্জ শহর এর সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। একই সাথে জরুরী প্রয়োজন ব্যথিত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই