শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কুষ্টিয়ায় পদ্মায় বালু উত্তোলনের মহোৎসব, হুমকিতে নদীতীর ও সেতু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১ জুলাই ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

কুষ্টিয়ার মিরপুর ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীতে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে দিন-রাত অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। সরকারি ইজারা ছাড়াই ‘সবজিপাড়া (সরদার ঘাট) ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন ও দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও নদীপথের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে পদ্মাপাড়ের জনবসতি এবং নদীর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সেতু। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্টদের নীরবতার সুযোগে এই অবৈধ বালু বাণিজ্য চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও প্রসাশন কে ম্যানেজ করেই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে। এদিকে ব্লকের কাজের আড়ালে বালু পাচারের অভিযোগ সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর তালবাড়িয়া, রানাখড়িয়া ও সবজিপাড়া (সরদার ঘাট) এলাকা থেকে প্রতিদিন ড্রেজার ও নৌকার মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু সরদার ঘাটে এনে ব্লক তৈরির কাজের নামে মজুত করা হয়। পরে সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক ড্রাম ট্রাকে করে যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি নৌকায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার বালু বহন করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০টি নৌকায় বালু উত্তোলন হওয়ায় এর বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

নেপথ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটঅনুসন্ধানে জানা যায়, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের নেপথ্যে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন সাইফুল কবিরাজ, রেজন মণ্ডল, শামিম সাদ্দার, হান্নান চেয়ারম্যান, রাজা কবিরাজ, মিঠু চেয়ারম্যান ও রকি-সহ আরও কয়েকজন। এদের মধ্যে একজন তারপরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল কবিরাজ, বাকি সব আওয়ামী লীগের দোসর তাদের বিরুদ্ধে নদীপথে প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ বালু বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।অভিযুক্তদের বক্তব্যঅভিযোগের বিষয়ে তালবাড়িয়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল কবিরাজ বলেন, আমি কোনো অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত নই। ঘাটটি অবৈধভাবে চলছে, এটা সত্য। তবে আমি এটি পরিচালনা করি না। হরিপুরের চাঁদ নামের একজন এটি পরিচালনা করেন।

আরও পড়ুন

নীলফামারীতে ভাবিকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে দেবরের ৫ বছরের কারাদণ্ড

অপর অভিযুক্ত শামিম সাদ্দার বলেন, আমরা দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্লক তৈরির কাজ সাব-কন্ট্রাক্ট পেয়েছি। তাই নদীপথ থেকে বালু কিনে এনে আনলোড করছি। তবে স্থানীয়দের দাবি, ব্লক তৈরির বিষয়টি কেবল আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে বালু দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ বলেন, পদ্মা নদীতে সরকারিভাবে কোনো ঘাট ইজারা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি এখন জানলাম। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।স্থানীয়দের দাবি, সরকারি রাজস্ব রক্ষা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং পদ্মাপাড়ের জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভোরের অঅকাশ/ এনউব

হুমকিতে নদীতীর ও সেতু

শেয়ার করুন: