শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা প্রকল্প

সিরাজগঞ্জ শহরে ১ বস্তা ময়লায় মিলছে ১শত টাকা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩ মার্চ ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

সিরাজগঞ্জ শহরকে একটি দৃষ্টিনন্দন, স্বাস্থ্যসম্মত, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রকল্প চালু করেছেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালক ব্যবসায়ী হাজী আব্দুস সাত্তার। 

শহরের রাস্তাঘাটে আর্বজনা-পলিথিন, গাছের পাতা, বিভিন্ন ধরণের ময়লা পরিস্কার করে ১টি বস্তা ভর্তি করে এনে দিলে, তার পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হচ্ছে ১শত টাকা। আর বস্তার ময়লা গ্রহণের সাথে সাথেই তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রকল্পের আওতায় জেলার গরীব, অসহায় ও দুস্থরা প্রতিদিন এই কাজ করছে। 

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা প্রকল্পে কাজের জন্য নতুন করে আরো ৫৫ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করেন ব্যবসায়ী হাজী আব্দুস সাত্তার। এর আগে গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় শহরের ধানবান্ধিস্থ মতি সাহেবের ঘাট জামে মসজিদ সামনে থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালক ব্যবসায়ী হাজী আব্দুস সাত্তার। 

এসময় তিনি এই এলাকায় ঝাড়ু ও বেলচা নিয়ে রাস্তা, রাস্তার পাশের পানি নিষ্কাশনের নালা, ফুটপাতে পড়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করেন। সেসময় রাস্তা ও নালায় যাতে ময়লা আবর্জনা ফেলা না হয়, সে জন্য ওই এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সিরাজগঞ্জ শহরের কাটাওয়াপদার এলাকার আব্দুল লতিফ বলেন, রাস্তার পাশে পরে থাকা পলিথিন ও বিভিন্ন ময়লা পরিস্কার করে বস্তায় ভরে আমি ব্যবসায়ী হাজী আব্দুস সাত্তার ভাইয়ের অফিসে জমা দিলে তার পারিশ্রমিক হিসেবে বস্তা প্রতি আমাকে ১শত টাকা করে দিচ্ছে। আমি সকাল থেকে দুপুর পযন্ত ৮ বস্তা ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করে এনে জমা দিয়েছি, তার বিনিময়ে আমাকে ৮শত টাকা দিয়েছে। 

এতে যেমন শহরে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার হলো, অন্য দিকে আমি পারিশ্রমিক হিসেবে টাকা পেলাম। শহরের মতি সাহেবের ঘাট এলাকার সুলতানা বেগম বলেন, আজকে আমি শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৩ বস্তা পলিথিনসহ আর্বজনা এনে দিয়েছি, তার জন্য আমাকে ৩শ টাকা দিয়েছে। এতে আমি অনেক খুশি হয়েছি।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালক ব্যবসায়ী হাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হলো ঈমানের অঙ্গ। একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের স্বাস্থ্য ও মন-মানসিকতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিবেশের ক্ষতি করে এমন সব ধরণের পলিথিনের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। আমরা যদি সচেতন না হই তাহলে কোন কিছুই সম্ভব নয়। 

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের সকলের সচেতন হতে হবে। আমাদের আবর্জনা আমাদেরকেই পরিষ্কার করতে হবে।শহরকে আবর্জনামুক্ত রাখতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং আমাদের সবার দায়িত্বশীল আচরণও প্রয়োজন। 

এখন থেকে আমাদের শহরের যেখানে যেখানে ময়লা পড়ে থাকবে, আমরা ওখানে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে নিজেরা ময়লা পরিষ্কার করে এ শহরটিকে একটি পরিষ্কার শহর হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করব। সিরাজগঞ্জ শহরকে একটি পরিকল্পিত শহরে রূপান্তর করতে আমাদের এই কার্যক্রম নিয়মিত চলমান থাকবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি সপ্তাহে অসহায়, দুস্থ ও গরিব মানুষদের আর্থিক সহযোগিতা করে আসছি। তার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ শহরকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে আমার কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা ভোগীদের দিয়ে শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা প্রকল্প চালু করেছি। 

এতে অসহায়, দুস্থ ও গরিব মানুষেন আর্থিক সহযোগিতার পরিবর্তে পারিশ্রমের মূল্য দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে সিরাজগঞ্জ শহরকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এই প্রকল্পে দুটি কাজ হচ্ছে- ১. অসহায়, দুস্থ ও গরিবদের আর্থিক সহযোগিতার পরিবর্তে পরিশ্রমের মুল্য দিচ্ছি ২. সিরাজগঞ্জ শহরকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলছি। 

সিরাজগঞ্জ শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে সবাইকে সচেতন হওয়া। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা এবং শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য শহরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

ভোরের আকাশ/ র.ই

 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাহাজী আব্দুস সাত্তার

শেয়ার করুন: