দিরাই হাসপাতালে ঢুকে হামলা-ভাঙচুর,নীরব কর্তৃপক্ষ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন এক রোগীকে মারধর এবং সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের নজিরবিহীন তাণ্ডবের পর ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত মামলা দায়ের করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ায় হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মস্থলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামে বাঁশ কাটা নিয়ে জীবু চৌধুরী ও জাহাঙ্গীরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত জীবু চৌধুরীকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যখন চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন প্রতিপক্ষ জাহাঙ্গীরের স্বজনরা লাঠিসোটা নিয়ে জরুরি বিভাগে ঢুকে পড়েন। তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন জীবু চৌধুরীর ওপর দ্বিতীয় দফায় অতর্কিত হামলা চালান এবং জরুরি বিভাগে ব্যাপক তাণ্ডব চালান। আতঙ্কের কথা জানিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগী বলেন, হামলার সময় বিকট শব্দে পুরো হাসপাতাল কেঁপে উঠেছিল, আমরা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। চিকিৎসা সরঞ্জাম ভেঙে ফেলায় এখন আগের মতো চিকিৎসাও পাচ্ছি না। এখন সবসময় মনের মধ্যে একটাই ভয় কাজ করছে কখন আবার দল বেঁধে লোকজন হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কাকে মারধর শুরু করে।
শুক্রবার ভাঙচুরের পর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. প্রশান্ত তালুকদার জানান,হামলার কারণে জরুরি বিভাগের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসিজি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ভেঙে ফেলায় রোগীদের তাৎক্ষণিক জরুরি সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। (উল্লেখ্য, এ বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।)
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীদের ভাঙচুরে জরুরি বিভাগের একটি মূল্যবান ইসিজি (ECG) মেশিন, ডিজিটাল ওজন পরিমাপক যন্ত্র, পানির ফিল্টার ও পাইপলাইন এবং রোগীদের চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত একাধিক শয্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দিরাই থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
চার দিন পরও কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। মামলা হয়েছে কি না, পুনরায় জানতে চাইলে তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিনই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ না করলেও গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, সাকিতপুর গ্রামের মূল সংঘর্ষের ঘটনায় একটি পক্ষের দেওয়া অভিযোগটি তদন্ত করছে পুলিশ।
ভোরের আকাশ/ এনউব