শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সিডিএর নতুন চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, জলাবদ্ধতা ও মেগা প্রকল্পই বড় চ্যালেঞ্জ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। 

এক বছরের চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগের মাধ্যমে দেশের প্রধান বন্দরনগরীর নগর পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার নেতৃত্বে আসছেন তিনি।

তবে এই দায়িত্ব গ্রহণ সহজ কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। এমন এক সময়ে তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন সিডিএর সামনে রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার চলমান প্রকল্প, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা, সমন্বয়হীন উন্নয়ন কাঠামো এবং নাগরিক আস্থার সংকট। সরকারি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে সিডিএ ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি, যার মধ্যে চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং আউটার রিং রোড অন্যতম প্রধান।

এসব প্রকল্পের কিছু অংশে দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকলেও এখনো নগরবাসী পুরো সুফল পায়নি। ফলে নতুন চেয়ারম্যানের জন্য এটি একদিকে উন্নয়ন বাস্তবায়নের সুযোগ, অন্যদিকে জটিল প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। প্রাথমিক ব্যয় ছিল প্রায় ৩,২৫০ কোটি টাকা, তবে বিভিন্ন সংশোধন ও অতিরিক্ত কাজের কারণে ব্যয় বেড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। র‌্যাম্প ও সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্পটি এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।

একইভাবে আউটার রিং রোড প্রকল্পও জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত জটিলতা এবং বাস্তবায়ন ধীরগতির কারণে পূর্ণ কার্যকারিতা অর্জন করতে পারেনি।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা জলাবদ্ধতা। বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া ও চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো । এই সমস্যা সমাধানে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখনন, ড্রেনেজ উন্নয়ন, সুইসগেট নির্মাণ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

তবে দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয়ের পরও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল খননের পাশাপাশি নগর পরিকল্পনার ত্রুটি, ড্রেনেজ রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাও এর মূল কারণ।

চট্টগ্রাম নগর উন্নয়নে সিডিএ ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ জড়িত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। একই সড়কে একাধিকবার কাজ ও অসমাপ্ত প্রকল্প নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন পেশাগতভাবে একজন প্রকৌশলী এবং রাজনৈতিকভাবে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর মূল্যায়ন হবে প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা ও ফলাফলভিত্তিক নেতৃত্বের ওপর।

নগরবাসীর প্রত্যাশা এখন উন্নয়ন ঘোষণার বাইরে বাস্তব পরিবর্তন। জলাবদ্ধতামুক্ত নগর, যানজট নিয়ন্ত্রণ, পরিকল্পিত আবাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দ্রুত নাগরিক সেবা এখন প্রধান চাহিদা।

এক বছরের দায়িত্বকালে নতুন চেয়ারম্যানের সামনে মূল তিনটি চ্যালেঞ্জ চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতায় দৃশ্যমান উন্নয়ন আনা এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা।

আরও পড়ুন

বগুড়া সদরে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে জিআর চাল বিতরণ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন নগর উন্নয়ন নিয়ে জনআস্থা ও প্রত্যাশা দুটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ফলে তাঁর সামনে এটি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগর কাঠামো গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ভোরের আকাশ/ র.ই


 

বেলায়েত হোসেনজলাবদ্ধতা নিরসন

শেয়ার করুন: