সুনামগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ১২জন আটক

সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৮ঘন্টায় মাদক, ডাকাতি ও অনলাইন ক্যাসিনো কান্ডে জড়িত ১২জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলাকে মাদক,সন্ত্রাস, চুরি,ডাকাতি,ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া ক্যাসিনো নির্মুল করতে ওসি রতন সেখের নেতৃত্বে জোড়ালো অভিযানে পুলিশের বিশেষ টিম দিনরাত ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে চলেছে এবং প্রতিনিয়ত অপরাধীদের আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ৪৮ ঘন্টার অভিযানে ডাকাতি ছিনতাই, মাদক, ইয়াবা ব্যবসায়ী ও অনলাইন ক্যাসিনো কান্ডের জড়িত নারী পুরুষসহ ১২জনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে সদর থানা পুলিশ।
জানা যায় গত ১০মে রবিবার ওসি রতন সেখ পিপিএম এর নেতৃত্বে এসআই আশরাফ ও এসআই জহিরসহ পুলিশের চৌকস টিম আব্দুজ জহুর সেতুর পাশ হতে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সময় হাতেনাতে ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের ৩ সদস্যকে আটক করেন। আটককৃতরা হলো ডাকাত দলের সরদার এবং ১৮ টি মামলার আসামি মোঃ এনামুল হক সাগর (বাদশা-৩৫),তার সহযোগী শামিনুর ইসলাম শিমুল (২০) এবং নিকতারা বেগম (৩২)।
এছাড়াও ১১ই মে সোমবার পৌর শহরের হাছন নগর ময়নার পয়েন্টে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা মাদক সরঞ্জামসহ ৪ ইয়াবা ব্যাবসায়ীকে আটক করা হয়। ওসি রতন শেখ পিপিএম নেতৃত্বে এসআই হানিফ, এএসআই জাকারিয়া সঙ্গীয় ফোর্সদের উপস্থিতিতে সুনামগঞ্জ শহরের বিহারী পয়েন্টে বেলা ১টার সময় অভিযান পরিচালনা করে হাতেনাতে ৩জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে আরও একজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী মোঃ আশরাফ উল্লাহ (৩৫) পিতা-মোঃ আক্তারুজ্জামান থানা-সোনারগাঁও জেলা-নারায়নগঞ্জ বর্তমান ঠিকানা ধানসিঁড়ি ১৫/এ বনানীপাড়া সুনামগঞ্জ পৌরসভা থানা-সুনামগঞ্জ সদর জেলা-সুনামগঞ্জ, মোঃ জনি মিয়া (৩৮) পিতা-মোঃ কালা মিয়া সাং-সেলবরষ থানা-ধর্মপাশা জেলা-সুনামগঞ্জ বর্তমান ঠিকানা আলীপাড়া (শাহিনের বাসা) সুনামগঞ্জ পৌরসভা থানা-সুনামগঞ্জ সদর জেলা-সুনামগঞ্জ, নুরুজ্জামান খাঁন (৫২) পিতা-মৃত নুরুল ইসলাম খাঁন সাং-হাছননগর সুনামগঞ্জ পৌরসভা থানা-সুনামগঞ্জ সদর জেলা-সুনামগঞ্জ ও সবুর মিয়া ওরফে সবুজ (৪৬) পিতা-মোঃ আব্দুল লতিফ সাং-বড়পাড়া সুনামগঞ্জ পৌরসভা থানা-সুনামগঞ্জ সদর জেলা-সুনামগঞ্জ।
এছাড়াও প্রতারনা ও সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি হিসেবে ১ মহিলাকে আটক করা হয়। আটককৃত মহিলার নাম ছামছিয়া স্বামী এবাদুর রহমান। সে সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের জানীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তাছাড়াও ১২মে মঙ্গলবার সদর থানা পুলিশের অভিযানে অনলাইন ক্যাসিনো জুয়া কান্ড বন্ধে ওসি রতনসেখ পিপিএম এর নেতৃত্বে এসআই জাকারিয়া, এসআই জহির,এসআই আশরাফসহ পুলিশের টিম অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় চিহ্নিত প্রতারক পৌর শহরের আপ্তাব নগর এলাকার বাসিন্দা এবং অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ারী মোস্তাকসহ ৪ জনকে আটক করা হয়। জানা যায় মোস্তাক সরকারিভাবে ডিপ টিউবওয়েল বসানোর কথা বলে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অফিসের সরকারি কাগজ সিল মেরে জাল জালিয়াতি করে করে সাধারণ গরীব মানুষের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। তারই সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ অনলাইন জুয়ার এজেন্ট মোস্তাক হোসেনকে আটক করা হয়। তার কাছে থাকা উদ্ধারকৃত মোবাইলে জুয়ার অ্যাপসের মাধ্যমে জুয়ার বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর মোবাইলে জব্দ করা হয়েছে বলে জানান সদর থানা পুলিশ। আটককৃত মোস্তাক আপ্তাব নগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আহাদের ছেলে। এছাড়াও অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার সাথে জড়িত আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে আটককৃত ঐ তিনজন হলো রানি ইসলাম বাপ্পা (২৭), সে নতুন হাছন নগর এলাকার বাসিন্দা মৃত রমজান আলীর ছেলে এবং একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবুল মিয়ার ছেলে মোঃ তানিম হোসেন (২৮), মৃত রজব আলীর ছেলে মোঃ মারুফ আহমেদ (২৯)।
এ ব্যপারে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন সেখ পিপিএম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সিলেট রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি ও সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সুনামগঞ্জ সদর থানা এরিয়াকে মাদক,জুয়া,সন্ত্রাস,চুরি,ছিনতাই মুক্ত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধ দমনে আমাদের পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। গত ৪৮ঘন্টায় বিভিন্ন মামলায় ১২জনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদক নির্মুল অভিযানে পুলিশ জিরো ট্রলারেন্স বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ এবং কঠোর অবস্থানে।
ভোরের আকাশ/এনউব