শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কমেছে ঝরে পড়া, বেড়েছে উপস্থিতি

দিনাজপুরের পাঁচ উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

প্রাথমিক শিক্ষায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে দিনাজপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বেড়েছে এবং ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

জেলার বিরল, কাহারোল, বোচাগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও বিরামপুর উপজেলার ৬০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের যৌথ উদ্যোগে গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে দুটি বনরুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা-যা শিশুদের দৈনন্দিন পুষ্টি ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কর্মসূচির ফলশ্রুতিতে উপজেলা পাঁচটির ৩৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় অবস্থিত ৬০২টি বিদ্যালয়ের মোট ৬৯ হাজার ৭৭৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৬২ হাজার ৭৯৭ জন নিয়মিতভাবে সপ্তাহে পাঁচ দিন খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। টিফিন পিরিয়ডে নির্ধারিত স্থানে সুশৃঙ্খলভাবে খাবার গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সততা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মতো মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটছে।

এ কর্মসূচি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, স্থানীয় নারীদের জন্যও নিয়ে এসেছে অর্থনৈতিক সুযোগ। জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রায় ২১০ জন নারী উদ্যোক্তা নিয়মিতভাবে ডিম ও কলা সরবরাহ করছেন। এতে তারা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন, যা তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

বিদ্যালয় পরিদর্শনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে। কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরমান জানান, বাড়ি থেকে অনেক সময় না খেয়ে স্কুলে আসতাম। এখন প্রতিদিন স্কুলে খাবার পাই, তাই স্কুলে আসতে ভালো লাগে। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, স্কুল থেকে খাবার পাওয়ায় আমাদের বাড়ি থেকে টিফিন আনতে হয় না এবং ক্ষুধার্ত থাকতে হয় না। ক্লাসে লেখাপড়া মনোযোগ দিয়ে করতে পারি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী জানান, স্কুল ফিডিং চালুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে অনিয়মিত থাকা শিক্ষার্থীরাও এখন নিয়মিত স্কুলে আসছে, ফলে শিক্ষার পরিবেশ ও মান উভয়ই উন্নত হয়েছে। অভিভাবকরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য এটি একটি বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানাল চীন

বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিমরান মোহাম্মদ সায়েক বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে, ঝরে পড়া কমছে এবং শিক্ষার মান উন্নত হচ্ছে। খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও চালু করা হয়েছে। এই কর্মসূচি শুধু পুষ্টি নিশ্চিত করছে না, বরং শিক্ষার্থীদের সুস্থ, সচেতন ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক রূপান্তরে এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি মডেল হয়ে উঠতে পারে।

ভোরের আকাশ/ইউএম

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি

শেয়ার করুন: