শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নড়াইলে চার দশক ধরে সাইকেলে হাঁস মুরগীর ঔষধ বিক্রি করেন আজিজ

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:০৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন ৬৫ বছরের আজিজ শেখ। সাইকেলের পেছনে রাখা ব্যাটারি, সামনে ঝোলানো হ্যান্ড মাইক আর ব্যাগভর্তি হাঁস, মুরগি ও কবুতারের নানা রোগের ওষুধ—এই তাঁর নিত্যসঙ্গী। প্রায় চার দশক ধরে নড়াইলের গ্রামে গ্রামে ঘুরে এভাবেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

আজিজ শেখের আদি বাড়ি সাতক্ষীরায়। প্রায় ৪০ বছর আগে কাজের সন্ধানে নড়াইলে আসেন। শুরুতে শহরের ভওয়াখালী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর বর্তমানে সদর উপজেলার উজিরপুর গ্রামে পাঁচ শতক জমি কিনে টিনের ঘরে বসবাস করছেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তাঁর চার সদস্যের সংসার।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে নড়াইল সদর উপজেলার আগদিয়া গ্রামে কথা হয় আজিজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সকাল ছয়টার দিকে বাড়ি থেকে বের হই। কোনো দিন আটটা, কোনো দিন নয়টার আগে ফিরি না। ওষুধ নিজেই বানাই, নিজেই বিক্রি করি। হাঁস, মুরগি, কবুতার আর মানুষের চুলকানির ওষুধও রাখি।’

যশোর ও সাতক্ষীরা থেকে কাঁচামাল কিনে এনে নিজের হাতে ওষুধ তৈরি করেন আজিজ। বহু বছর ধরে গ্রামে গ্রামে ঘোরার কারণে অধিকাংশ মানুষই তাঁকে চেনেন। ভালোবাসা ও বিশ্বাস থেকেই অনেক খামারি তাঁর কাছ থেকে ওষুধ কেনেন বলে জানান তিনি।

আজিজ বলেন, একসময় তাঁর ব্যবসা ভালোই চলত। ‘২০–২৫ বছর আগে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার ওষুধ বিক্রি হতো। এখন দোকানে নানা কোম্পানির ওষুধ আসায় চাহিদা কমে গেছে।’ বর্তমানে তাঁর দৈনিক আয় গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

এই আয়ে কোনোমতে চলে সংসার। বড় ছেলে আলামিন শারীরিক প্রতিবন্ধী। ছোট ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। স্ত্রী সংসারের কাজ সামলান। আজিজ বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে পাঁচ শতক জমি কিনতে পেরেছি। সরকারি একটা ঘর পেলে শেষ বয়সটা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম।’

গ্রামে ঢুকলেই আজিজের সাইকেলের মাইকে ভেসে আসে পরিচিত ঘোষণা। সেই শব্দ শুনেই বাড়ির আঙিনা থেকে বেরিয়ে আসেন হাঁস-মুরগি পালন করা নারীরা। কারও মুরগি অসুস্থ, কারও হাঁস খাওয়া বন্ধ করেছে, আবার কারও কবুতারে রোগ—সব সমস্যার সমাধানে তাদের প্রথম ভরসা আজিজ।

আগদিয়া গ্রামের৷ স্বপ্না বিশ্বাস বলেন, হাস মুরগীর কোন সমস্যা হলে আজিজ ভাইয়ের ঔষধে ঠিক হয়ে যায়। তাই তার ঔষধ আমরা কিনে ঘরে রেখে দি। হাঁস মুরগির কোন রকম সমস্যা হলে আমরা তার ঔষধ ব্যবহার করি। 

শিমুলিয়া গ্রামের আরেক খামারি  মফিজ শেখ। তিনি বলেন। আজিজে তৈরী ঔষধ মুরগীদের খাওয়ালো  রোগ ঠিক হয়ে যায়। এ গ্রামের সবাই হাঁস, মুরগি, কবুতার পালনে তার তৈরী ঔষধ ব্যবহার করেন।

ভোরের আকাশ/মো.আ.


 

 


 

নড়াইল

শেয়ার করুন: