কাপাসিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে মা-মেয়েকে কুপিয়ে জখম

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পৈত্রিক জমি ও দোকানঘর দখলের বাধা দেওয়ায় এক নারী ও তার মেয়েকে কুপিয়ে জখম এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের পাবুর গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পারভীন (৫০) জানান, তার স্বামী মো. ফারুক মোড়ল অসুস্থ থাকায় মেয়ে ফারিয়া আক্তার সুমি তাদের মালিকানাধীন ৩ শতাংশ জমি ও বাড়িটি বিক্রির উদ্যোগ নেন। জমি বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড টাঙানোর পর থেকেই প্রতিবেশী বিবাদী ১নং বিবাদী মো. মকবুল হোসেন মুকুল মেম্বার (৪৫) এবং তার স্ত্রী সাজেদা বেগম (৩৫) জমিটি জবরদখল করার পায়তারা শুরু করেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি প্রদান করেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে ফারিয়া আক্তার সুমি জমি বিক্রির বিষয়ে প্রতিবেশীদের সাথে আলাপকালে বিবাদীরা অতর্কিত হামলা চালায়। প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা মা ও মেয়েকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১নং বিবাদী মুকুল মেম্বার সুমিকে টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করেন এবং ২নং বিবাদী সাজেদা বেগম সুমির গলা থেকে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেন। হামলার এক পর্যায়ে বিবাদীরা সুমির ৪ বছর বয়সী শিশু সন্তান ইয়াশাকে গলা চিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। বোনকে বাঁচাতে পারভীনের বড় বোন রাহিমা খাতুন এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মুকুল মেম্বার হাতে থাকা কোদাল দিয়ে পারভীনের মাথায় কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী পারভীন বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই