মেহেরপুরে আমেরিকার ‘আনারকলি’ চাষে সফল তরুণ মিঠু

ইউটিউবের ভিডিও দেখে বিদেশি ফল চাষের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা মিঠু হোসেন, তা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামে নিজের দেড় বিঘা জমিতে দক্ষিণ আমেরিকার ফল প্যাশন ফ্রুট বা ‘আনারকলি’ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে আকর্ষণীয় এই ফল, যা স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কম খরচে দীর্ঘদিন ফল পাওয়ার এই সম্ভাবনাময় চাষ দেখে এখন এলাকার অন্য কৃষকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউটিউবে আনরকলি চাষের কৌশল দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে চারা সংগ্রহ করেন মিঠু। এরপর মাচা পদ্ধতিতে দেড় বিঘা জমিতে মোট ২৩২টি গাছ রোপণ করেন। চারা লাগানোর মাত্র চার মাসের মাথায় গাছে ফুল আসে। বর্তমানে বাগান থেকে নিয়মিত ফল তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন তিনি।
পুরো বাগান তৈরি করতে তাঁর খরচ হয়েছে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। বিশেষ করে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে সম্পূর্ণ গোবর ও জৈব সার এবং পোকা দমনে কীটনাশকের বদলে পরিবেশবান্ধব ফেরোমন ট্র্যাপ ব্যবহার করছেন তিনি। রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় অল্প খরচেই এই চাষ লাভজনক করা সম্ভব বলে জানান এই তরুণ উদ্যোক্তা। একবার গাছ রোপণ করে টানা পাঁচ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
শুরুতে গ্রামের অনেকেই এই নতুন ফলের চাষ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। তবে বাগানে থোকায় থোকায় ফল আসার পর সবার ধারণা পাল্টে গেছে। স্থানীয় কৃষক মোজাম্মেল হক, মফিজুল ও নুরুল ইসলাম জানান, মিঠুর বাগানে চমৎকার ফলন দেখে তাঁরাও এখন আনরকলি চাষ করার কথা ভাবছেন। ফলের আকর্ষণীয় চেহারা, টক-মিষ্টি স্বাদ এবং ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা তাঁদের এই পেশায় আগ্রহী করে তুলেছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন কৌতূহলী মানুষ ও ক্রেতারা ভিড় করছেন মিঠুর বাগানে। দর্শনার্থী আশরাফুর নেছা ও মাহমুদা খাতুন জানান, নতুন এই ফল দেখতে সুন্দর এবং খেতেও সুস্বাদু; এ ধরনের চাষাবাদ কৃষকদের বাড়তি আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মেহেরপুরের উপপরিচালক কাজী শাহনেওয়াজ জানান, মিঠু হোসেন নিজ উদ্যোগে জেলায় প্রথম আনরকলি চাষের শুভ সূচনা করেছেন। তাঁর এই সাফল্যে কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর প্রতিটি গাছে গড়ে ৭ থেকে ৮ কেজি ফলন পাওয়া গেছে, যা আগামীতে বেড়ে ১৫ থেকে ২০ কেজিতে উন্নীত হতে পারে। বাজারের চাহিদা ও লাভজনকতা বজায় থাকলে এই ফলের চাষ মেহেরপুরের কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/ এনউব