তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মনোনয়ন না পাওয়া হাজী ইয়াছিন

কুমিল্লার রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় এনে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া, আহ্বায়কের পদ হারানো এবং সমর্থকদের হতাশার আবহ—সবকিছুকে ছাপিয়ে তিনি এখন একসঙ্গে খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং কুমিল্লার রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথ গ্রহণের পরপরই কুমিল্লা নগরীজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। টাউন হল মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা সমাবেশ করেন।
কুমিল্লা সদরে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল আকবর হোসেন-এর পর দীর্ঘদিন মন্ত্রীশূন্য ছিল এ আসন। সেই শূন্যতা পূরণ হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন হাজী ইয়াছিন।
মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপের সময় তিনি সংগঠনকে একত্র রাখার চেষ্টা করেছেন।
করোনা মহামারী, বন্যা ও বিভিন্ন মানবিক দুর্যোগে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেন তিনি।
তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ছয়টি আসনে বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।
বিশেষ করে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে দলীয় বিরোধ নিরসনে তার ভূমিকা ছিল আলোচিত।
একই মন্ত্রিসভায় কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
অপরদিকে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন।
ফলে এবার কুমিল্লা জেলা থেকে একসঙ্গে তিনজন মন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লায়। নগরের মনোহরপুর (নিমতলী) এলাকার ভোটার হলেও তার পৈতৃক বাড়ি সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে।
পিতা প্রয়াত হাজী আলী মিয়া ও মাতা আমেনা বেগম। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন কুমিল্লা-৯ (সদর দক্ষিণ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে কুমিল্লা-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০০১ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য, ২০০৯ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-কৃষিবিষয়ক সম্পাদক হন।
পরবর্তীতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক এবং ২০২২ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৫ সালের ১২ মার্চ তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন।
ভোরের আকাশ/নি. ব