খাগড়াছড়ির মেরুংয়ে ৩০০ বন্যাদুর্গত পরিবার পেল নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিট

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ৩০০টি পরিবারের মধ্যে শর্তহীন বহুমুখী নগদ সহায়তা (এমপিসিজি) ও হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ৮ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তার পাশাপাশি একটি করে হাইজিন কিট প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে দিঘীনালা উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাবারাং কল্যাণ সমিতি। স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের অর্থায়ন এবং কারিতাস বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত Alert B075: Rainfall Induced Flash Flooding and Landslide in Eastern Bangladesh প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রোগ্রাম পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা। প্রধান অতিথি ছিলেন মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মীনা চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সমীরণ চাকমা এবং দিঘীনালা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সোহেল রানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীনা চাকমা বলেন, দুর্যোগের সময় মানবিক সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে সমান গুরুত্বের সঙ্গে সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। এজন্য ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, পক্ষপাত কিংবা দুর্নীতির কোনো সুযোগ না রাখতে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্যোগের প্রভাব শুধু ঘরবাড়ি বা সম্পদের ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি মানুষের জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জরুরি চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিটের মতো উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর।
বক্তারা আরও বলেন, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম প্রস্তুতি জোরদার এবং স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। তারা স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ, কারিতাস বাংলাদেশ এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ ভবিষ্যতের দুর্যোগ আরও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মেরুং ইউনিয়নে এ বিতরণের মধ্য দিয়ে অ্যালার্ট বি০৭৫ প্রকল্পের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সমাপ্তি হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দিঘীনালা উপজেলার কবাখালী ও মেরুং এবং খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ও কমলছড়ি—এই চারটি ইউনিয়নের মোট ৮০০টি বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে শর্তহীন নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিট তুলে দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তাই নয়, বরং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভোরের আকাশ/এনউব