বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বাড়ছে জনঅসন্তোষ, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনকে চিঠি

তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকটে বিপর্যস্ত জামালপুরের জনজীবন। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও নাজুক। কোথাও কোথাও দিনে ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।
অসহনীয় গরমের পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জেলার বিভিন্ন বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মো. সাহিদুল ইসলাম।
মহাব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট। বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দৈনিক প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে, যা লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সমিতির আওতাধীন গ্রাহকদের প্রতিদিন গড়ে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে গ্রাহকদের বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।
পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় বিদ্যুৎ অফিস, উপকেন্দ্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মো. সাহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি নিয়মিত প্রশাসনকে জানানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কাছেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়ায় এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো উপকেন্দ্র বা অফিসে সমস্যা হলে হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, লোডশেডিং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ইচ্ছায় হচ্ছে না। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার কারণেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সমিতির অধীনে ১৯টি উপকেন্দ্র ও ১৯টি সুইচিং স্টেশন রয়েছে। এসব স্থাপনার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় এক লাখ গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
ভোরের আকাশ/জেআ