কুষ্টিয়ায় অধিক মুনাফার লোভে অপরিপক্ব তরমুজ বিক্রি

কুষ্টিয়ায় পবিত্র রমজান ও গ্রীষ্মের আগাম মৌসুমে অধিক মুনাফা লাভের আশায় অপরিপক্ব তরমুজ বাজারে ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা। শহরের পৌর মিউনিসিপ্যাল বাজারসহ এন এস রোড সংলগ্ন পাইকারি আড়তগুলোতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা ও সাদা তরমুজ। ভালো হবে বলে বিক্রি করলেও বাসায় নিয়ে কাটার পর হতাশ হতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
পৌর বাজারে তরমুজ কিনতে এসে প্রতারণার শিকার হন আব্দুল হান্নান নামের এক ক্রেতা। তিনি জানান, ৯০ টাকা কেজি দরে একটি তরমুজ কেনেন তিনি। কেনার সময় দোকানদারকে তরমুজটি কেটে দেখানোর অনুরোধ করলে দোকানদার তা নাকচ করে দেন।
ভুক্তভোগী হান্নান বলেন, "দোকানদার আমাকে বললেন সকাল থেকে পাঁচ হাজার তরমুজ বিক্রি করেছি, সব লাল। আপনি নিয়ে যান, লাল হবেই। কিন্তু বাসায় গিয়ে কেটে দেখি তরমুজের ভেতরটা একদম সাদা ও কাঁচা। এর কোনো স্বাদ নেই।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা তরমুজ কেটে দেখাতে রাজি হচ্ছেন না। ক্রেতারা সন্দেহ পোষণ করলে তারা একই গৎবাঁধা কথা বলছেন— ‘তরমুজ লাল হবে, নিলে নেন না নিলে না নেন’। মূলত বাড়তি দামের সুযোগ নিতেই অপরিপক্ব তরমুজ গাছ থেকে পেড়ে বাজারে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুম আলী জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, "আমরা বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়েছি। দোকানদাররা দাবি করছে তরমুজ ভেতরে সাদা হলেও মিষ্টি হবে। তবে যেহেতু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে, আমরা বাজারদর তদারকি এবং অপরিপক্ব পণ্য বিক্রির বিষয়ে আবারও অভিযান পরিচালনা করব।
সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, লোকদেখানো অভিযান নয় বরং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় মৌসুমি এই ফলের বাজারে সাধারণ মানুষের প্রতারিত হওয়ার হার আরও বাড়বে।
ভোরের আকাশ/ র.ই