বর্ষায় বাড়ছে সাপের উপদ্রব, ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ার হাসপাতালে ১৩ রোগী

বর্ষার আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে কুষ্টিয়া অঞ্চলে সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলার মাঠে-ঘাটে সাপের বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সাপে কাটা অন্তত ১৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বিষধর রাসেল ভাইপারের (চন্দ্রবোড়া) কামড়ে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরের পর থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপে কাটা ১৩ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের প্রায় সবাই পেশায় কৃষক।
আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ মাঠে কাজ করার সময়, কেউবা পাট ধোয়ার মতো দৈনন্দিন কৃষিকাজে যুক্ত থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশই কোন সাপের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে তা নির্দিষ্ট ভাবে জানেন না।
কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের কৃষক শহিদুল ইসলাম পাট ধোয়ার সময় এবং সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক রহিবুল মাঠে কাজ করার সময় সাপের কামড়ে আহত হন।
কুমারখালি বারখাদার মেহেরিনা , দৌলতপুরের হোসনেয়ারা বাড়ির পাশ থেকে সাপের কামড়ে আহত হন।
অন্যদিকে, দৌলতপুর উপজেলার জুবায়ের নামে এক যুবক মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাপের আক্রমণের শিকার হন।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ঘটনাটি ঘটেছে ভেড়ামারা উপজেলার কলেজপাড়া এলাকায়। সেখানকার বাসিন্দা হারুন মারাত্মক বিষধর রাসেল ভাইপারের কামড়ে আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, ভর্তি হওয়া সকল রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ড. মো. মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জন সাপে কাটা ও বিষধর প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি। এর মধ্যে একজনকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে এবং আমরা দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি।
রোগীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে এই চিকিৎসক আরও বলেন, সাপে কামড়ালে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করা যাবে না। কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বাড়ার বিষয়ে বন্য প্রাণী ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘বাংলাদেশ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) সহ সভাপতি শাহাবউদ্দিন মিলনএর জানান, এটি মূলত সাপের প্রজনন ও বিচরণ বাড়ার মৌসুম। চারদিকে পানি জমে যাওয়ার কারণে সাপগুলো শুকনো ও উঁচু স্থানের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে। এই সময়ে বিশেষ করে কৃষকদের মাঠে কাজ করার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন তিনি।
ভোরের আকাশ/রই